আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে যাওয়ার পর সংস্থাটির সল্টলেকের অফিসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। আইপ্যাকের অফিস থেকে একগুচ্ছ ফাইল এনে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে তুলে রাখা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ও গোটা অফিস চত্বর। আইপ্যাকের অফিসের ভিতরেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে আধাসেনা জওয়ান এবং কলকাতা পুলিশের বিপুল সংখ্যক কর্মী।
বৃহস্পতিবার সকালে পুরনো কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরে দিল্লি থেকে আসা ইডি আধিকারিকরা আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন। একই সঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে সংস্থার সল্টলেকের অফিসেও। দুপুর বারোটার পর প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি সবুজ রঙের একটি ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং সোজা রওনা দেন আইপ্যাকের দপ্তরের দিকে।
দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট নাগাদ আবাসনের ১১ তলায় অবস্থিত আইপ্যাকের অফিসে ঢোকেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ। কিছুক্ষণ পরে অফিসের ভিতর থেকে এক ব্যক্তি একগুচ্ছ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। সেই ফাইলগুলি মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে রাখা হয়। দুপুর ১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী অফিসের ভিতরেই ছিলেন। যে কোনও সময় তিনি বেরিয়ে আসতে পারেন বলে জানা যায়। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে প্রচুর পুলিশ। সাংবাদিক বৈঠকও করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়েই মুখ্যমন্ত্রী তীব্র অভিযোগ করেন। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন তথ্য এবং প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নিতেই ইডি অভিযান করিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মমতা বলেন, এই অভিযান দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর অভিযোগ, দলের আইটি দপ্তরে হানা দিয়ে গোপন নথি ও প্রার্থী তালিকা চুরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, প্রতীক জৈনের কাছ থেকে দলের কিছু ফাইল এবং হার্ড ডিস্ক তিনি নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “এগুলো আমার দলের। আমি নিয়ে যাচ্ছি।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। কোনও নথি ছাড়াই ভোটারদের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে বলেও তাঁর দাবি। মমতার প্রশ্ন, তাঁর দলের গোপন তথ্য জানার জন্য যদি আইপ্যাক অফিসে হানা দেওয়া হয়, তবে তিনি বিজেপির অফিসে গেলে কী হত?











