ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে-র প্রয়াণের পর তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো ঘিরে পাকিস্তানে (Pakistan) শুরু হয়েছে বিতর্ক। পাকিস্তানের এক জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল তাঁর স্মরণে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতেই সেই চ্যানেলের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করেছে সে দেশের মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি, সংক্ষেপে পেমরা, অভিযোগ করেছে যে ওই চ্যানেলটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করেছে (Pakistan) । ২০১৮ সালে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত টিভি চ্যানেলগুলিতে ভারতীয় কনটেন্ট সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই নির্দেশ ভেঙেই আশার স্মৃতিচারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন চ্যানেলটির কর্তা আজহার আব্বাস। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংঘাতের সময়েও শিল্প ও শিল্পীদের এমনভাবে আটকে রাখা উচিত নয়। তিনি বলেন, কোনও মহান শিল্পীর মৃত্যু হলে তাঁর কাজ স্মরণ করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আশার মতো শিল্পীর ক্ষেত্রে আরও বেশি করে তাঁর গান শোনানো উচিত ছিল বলেও মত তাঁর।
তিনি আরও জানান, আশা ভোঁসলের সঙ্গে পাকিস্তানের (Pakistan) শিল্পীদের দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল। তিনি পাকিস্তানের কিংবদন্তি গায়িকা নূর জাহান-কে দিদির মতো মানতেন। এছাড়া নুসরাত ফতেহ আলি খান-এর সঙ্গে কাজ করেছেন এবং উর্দু কবিদের গান গেয়ে দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগ আরও মজবুত করেছেন (Pakistan) ।
প্রসঙ্গত, ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোঁসলে। বহু অঙ্গ বিকলের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক শ্মশানে পরিবারের সদস্য এবং অসংখ্য অনুরাগীর উপস্থিতিতে শেষ বিদায় জানানো হয় এই কিংবদন্তি শিল্পীকে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এল প্রশ্ন—শিল্প ও সংস্কৃতি কি কখনও সীমান্তে আটকে রাখা যায়? রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও এই বিতর্ক এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।










