পাঞ্জাবে (Punjab) ফের জঙ্গি আতঙ্ক। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই জায়গায় বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। পয়লা মে রাত থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জালন্ধরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দফতর এবং অমৃতসরের খাসা সামরিক শিবিরের কাছে পরপর বিস্ফোরণের পর রাজ্যজুড়ে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। তদন্তে নেমে পাঞ্জাব পুলিশ এই ঘটনার পিছনে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর যোগের অভিযোগ তুলেছে (Punjab)।
পাঞ্জাবের (Punjab) ডিজিপি গৌরব যাদবের দাবি, পাঞ্জাবকে অশান্ত রাখতেই এই চক্রান্ত করা হচ্ছে। গত দশ দিনের মধ্যে এটি তৃতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা। এর আগে সাতাশে এপ্রিল পাতিয়ালার রেললাইনের কাছে বিস্ফোরক পাতা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে খালিস্তান লিবারেশন আর্মি নামে একটি জঙ্গি সংগঠন। পুলিশের দাবি, পাকিস্তান ভিত্তিক গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে এই সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। জঙ্গি সংগঠনের দাবি, রণজিৎ সিং নামে এক যুবকের মৃত্যুর বদলা নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে পাঞ্জাবে পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছিল রণজিৎ সিংয়ের। তার আগে দুই পুলিশকর্মী খুনের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে (Punjab)।
পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্তের (Punjab) কাছে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করার সময় দুই পুলিশকর্মীকে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। হামলা এতটাই আচমকা হয়েছিল যে তাঁদের অস্ত্র ব্যবহার করারও সুযোগ হয়নি। তদন্তকারীদের দাবি, স্থানীয় যুবকদের টাকা দিয়ে এই হামলা করানো হয়েছিল।
এরপর থেকেই পাঞ্জাবে একের পর এক হামলার ঘটনা সামনে আসতে থাকে। মার্চের শেষে অমৃতসরের একটি থানার বাইরে কম শক্তির গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটে। তারপর এপ্রিলের শেষে পাতিয়ালায় রেললাইনের কাছে বিস্ফোরণের চেষ্টা হয়। সেই ঘটনায় বিস্ফোরক রাখতে গিয়ে মৃত্যু হয় অভিযুক্ত জগরূপ সিংয়ের। তদন্তে উঠে আসে খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠন এবং আইএসআই-এর যোগের অভিযোগ।
এদিকে এপ্রিল মাসেই বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনালের দুটি বড় জঙ্গি চক্র ভেঙে দেয় পাঞ্জাব পুলিশ (Punjab)। উদ্ধার হয় গ্রেনেড, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম এবং পেরেক ভরা বোমা। পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে।
শুধু বিস্ফোরণ নয়, গত কয়েক মাসে পাঞ্জাবে রাজনৈতিক নেতাদের উপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। জানুয়ারিতে আপ নেতাকে গুলি করে খুন করা হয়। ফেব্রুয়ারিতেও আর এক জনপ্রতিনিধিকে খুনের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি বিজেপি নেতাদের বাড়িতে গ্রেনেড হামলার ঘটনাও সামনে আসে। গত বছর অমৃতসরের একটি মন্দিরেও হামলা চালানো হয়েছিল।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চীনে তৈরি সৌরশক্তি চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এই ক্যামেরাগুলিতে চারজি সংযোগ ছিল এবং তা দিয়ে সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গতিবিধি সরাসরি পাকিস্তানে পাঠানো হত বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি জালন্ধর এবং কাপুরথলায় আইএসআই-সমর্থিত গুপ্তচর চক্রও ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে সন্দেহজনক সিসিটিভি ক্যামেরা, মোবাইল ফোন এবং ওয়াইফাই সরঞ্জাম। একই ধরনের চক্র দিল্লি এবং গাজিয়াবাদ থেকেও ধরা পড়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে পাঞ্জাবের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সেই কারণেই এখন জঙ্গি নেটওয়ার্ক, গ্যাংস্টার এবং বিদেশি গুপ্তচর সংস্থার যোগকে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে প্রশাসন। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। যদিও পুলিশ দাবি করেছে, প্রায় সব ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।












