আরজিকর কাণ্ড এবং তিলোত্তমা আন্দোলন গত কিছুদিনে রাজ্যের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি থেকে সাধারণ মানুষ—সব স্তরেই তোলপাড় হয়েছে (Panihati)। বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন বহু মানুষ। বিশেষ করে মহিলারা রাতভর আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সেই আন্দোলন যে এবার বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠবে, তা অনেকেই আগেই অনুমান করেছিলেন (Panihati)।
এই পরিস্থিতিতে পানিহাটি কেন্দ্রকে ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ভবানীপুরের পাশাপাশি এই কেন্দ্রও এখন রাজনীতির আলোচনায়। এখানে বামেদের প্রার্থী হয়েছেন তরুণ নেতা কলতান দাশগুপ্ত। ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই মুখকে ঘিরে বাম শিবিরে বাড়ছে আশাবাদ (Panihati)।
২০২১ সালের নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বামেদের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন। নন্দীগ্রামে দুই শক্তিশালী প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ে তিনি নজর কেড়েছিলেন। যদিও জয় পাননি, তবুও তাঁর প্রতি আস্থা কমেনি দলের। এবারে তিনি উত্তরপাড়ায় লড়ছেন এবং জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন (Panihati)।
এই নির্বাচনে বামেদের তরুণ প্রার্থীদের একটি বড় অংশ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে একাধিক নতুন মুখ প্রার্থী হয়েছেন। অনেক অভিজ্ঞ নেতা সরাসরি ভোটে না দাঁড়ালেও প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে পানিহাটির কলতান দাশগুপ্তকে অনেকেই বামেদের নতুন মুখ হিসেবে দেখছেন।
প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তিনি এলাকায় প্রচারে নেমে পড়েছেন। পানিহাটির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। সভা-মিছিলে যথেষ্ট সাড়া মিলছে বলেই দাবি দলের। এমনকি তাঁকে কেন্দ্র করে গানও তৈরি হয়েছে।
তিলোত্তমা আন্দোলনের সময় কলতান সামনে থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর গ্রেফতার হওয়াও আলোচনায় আসে। আন্দোলনের সময় একটি স্লোগানও জনপ্রিয় হয়েছিল, যেখানে তাঁর নাম উঠে আসে। তবে ভোটের লড়াইয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে।
বামফ্রন্টের নেতৃত্বও মনে করছে, কোনও কোনও সময়ে নির্বাচনে কিছু মুখ আলাদা করে উঠে আসে। সেই প্রসঙ্গ তুলে নেতৃত্ব জানিয়েছে, ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে পরাজিত হয়েও কেউ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
অন্যদিকে বাম ছাত্র সংগঠনের নেতারাও কলতানের পক্ষে সরব। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের মধ্যে কাজ করার ফলে তিনি অনেকের আস্থা অর্জন করেছেন। এই স্বীকৃতি তাঁর প্রাপ্য বলেও দাবি তাঁদের।
কলতান নিজেও জানিয়েছেন, মানুষ এখন বিকল্প খুঁজছে। দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বিরক্ত সাধারণ মানুষ নতুন পথ দেখতে চাইছে। সেই জায়গা থেকেই বামপন্থার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে তাঁর দাবি।
সব মিলিয়ে, পানিহাটির এই লড়াই শুধু একটি কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিলোত্তমা আন্দোলনের আবেগ, তরুণ মুখের উত্থান এবং রাজনৈতিক সমীকরণ—সব কিছু মিলিয়ে এই কেন্দ্র এখন বিশেষ নজরে। ভোটের ফলেই বোঝা যাবে এই আবেগ কতটা প্রভাব ফেলতে পারল।













