টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty) এখন আর শুধু সিনেমার মানুষ নন, তিনি ব্যারাকপুরের বিধায়ক এবং তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ২০২১ সালের মতো এবারও তাঁকেই ব্যারাকপুরের দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার তিনি (Raj Chakraborty) নিজেকে তারকা প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং একজন কাজ করা বিধায়ক হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছেন।
রাজ নিজেই জানিয়েছেন, সিনেমার জগতে তাঁর পরিচয় আলাদা হলেও রাজনীতির ময়দানে তাঁর একটাই পরিচয়—ব্যারাকপুরের বিধায়ক। সেই ভাবমূর্তিকেই এবার কাজে লাগাতে চান তিনি (Raj Chakraborty)।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে তাঁর যোগদান ছিল বড় চমক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস থেকেই তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে ব্যারাকপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়। শুরুতে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু সেই সব জল্পনাকে ভুল প্রমাণ করে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হন (Raj Chakraborty)।
রাজের রাজনৈতিক জীবনে আসার পেছনে রয়েছে একটি বিশেষ ঘটনা (Raj Chakraborty)। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে বাড়িতে রাজনৈতিক পরিবেশ থাকলেও নিজে সক্রিয় রাজনীতিতে কখনও ছিলেন না। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আলাদা টান ছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি অনুভব করেন, শুধু প্রচার নয়, এবার সরাসরি রাজনীতিতে নামার সময় এসেছে।
একদিন সকালে তিনি নিজেই ফোন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবং তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মমতা প্রথমে বলেন, তিনি তো আগেই তাঁর সঙ্গে আছেন। কিন্তু রাজ স্পষ্ট জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের পতাকা হাতে নিতে চান। এরপর খুব দ্রুতই তাঁর দলে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পরে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তাঁর যোগদান চূড়ান্ত হয়। সেই সময় থেকেই তাঁর জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
রাজ জানিয়েছেন, তিনি নিজেই মমতাকে বলেছিলেন তাঁকে এমন কেন্দ্রে প্রার্থী করতে, যেখানে লড়াই কঠিন। এরপরই তিনি জানতে পারেন, ব্যারাকপুর থেকেই তাঁকে প্রার্থী করা হচ্ছে। প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েই তিনি বড় ব্যবধানে জয় পান।
এবারও সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তিনি মাঠে নামছেন। তাঁর কথায়, তিনি প্রতিপক্ষকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বরং আগের কাজ এবং মানুষের সমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
সব মিলিয়ে, পরিচালক থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠার এই যাত্রা রাজ চক্রবর্তীর জীবনে এক বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। আর সেই অভিজ্ঞতাকেই হাতিয়ার করে এবার আবারও ব্যারাকপুরে জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন তিনি।













