বাংলাদেশের (Bangladesh) নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট করছে, কট্টর মৌলবাদী শক্তিকে সরিয়ে তুলনামূলকভাবে উদারপন্থী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-কে ক্ষমতায় আনতে চলেছেন ভোটাররা। অন্তত এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত ফল তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে ভারতের একাংশে স্বস্তি দেখা গেলেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ পর্যন্ত যা ফল পাওয়া গিয়েছে, তাতে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি ২১০টির বেশি আসনে (Bangladesh) এগিয়ে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-র নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় ইসলামিক জোট ৬০ থেকে ৭০টি আসনের মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে, আর জামাত বসবে বিরোধী আসনে।
এই ফলাফলে (Bangladesh) অনেকেই স্বস্তি দেখছেন। কারণ অতীতে স্বাধীন বাংলাদেশে জামাত কখনও ১৮টির বেশি আসন পায়নি। তাদের ভোটের হারও সাধারণত ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার তারা ইতিহাসের সর্বাধিক আসনে জয় পেতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় বিরোধী ভোটের একটা বড় অংশ জামাতের দিকে গেছে। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে কট্টরপন্থী শক্তির প্রভাব বেড়েছে বলেও মত অনেকের।
ভারতের দুশ্চিন্তার আরেকটি কারণ সীমান্ত সংলগ্ন আসনগুলির ফল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া একাধিক আসনে জামাত জোট উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ঠাকুরগাঁও-২, রাজশাহী-১, রংপুর-২, নীলফামারী-৩, সাতক্ষীরা-৪, চাপাইনবাবগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গার মতো আসনে তারা এগিয়ে। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের কিছু আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি।
সীমান্তবর্তী (Bangladesh) এলাকায় জামাতের এই সাফল্য ভারতের কূটনৈতিক মহলে নজর কাড়ছে। কারণ অতীতে জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এর মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ভারতে নাশকতার ঘটনায় জড়িয়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কট্টরপন্থী প্রভাব বাড়লে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ওপারে মৌলবাদী শক্তির উত্থান এপারেও প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্ত এলাকা যদি রাজনৈতিকভাবে অস্থির হয়, তা হলে অনুপ্রবেশ বা জঙ্গি তৎপরতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দুই দেশের প্রশাসনই সতর্ক।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বড় জয় স্বস্তি দিলেও, জামাতের অস্বাভাবিক উত্থান ভারতের কাছে নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে উঠেছে।











