ব্রিটেনের সামুদ্রিক বাণিজ্য নজরদারি সংস্থা জানিয়েছে, ইয়েমেনের উপকূলীয় শহর হোদাইদার কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় (Red Sea) জাহাজটি উপকূল থেকে প্রায় তিরিশ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। বিপদের সংকেত পাঠানোর পর আশপাশের জাহাজগুলিকেও সতর্ক করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
হোদাইদা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ইরান সমর্থিত হাউথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে (Red Sea)। সম্প্রতি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে আবারও হুমকি দিয়েছিল এই গোষ্ঠী। সেই কারণেই এই হামলার ঘটনায় হাউথিদের ভূমিকা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সংগঠনের নাম নিশ্চিত করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধের সময় লোহিত সাগর (Red Sea) ছিল বিশ্বের অন্যতম উত্তপ্ত সামুদ্রিক অঞ্চল। বাব আল-মান্দাব প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বহু বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছিল যে বহু আন্তর্জাতিক জাহাজ সংস্থা বাধ্য হয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে পণ্য পরিবহণ শুরু করে।
এদিকে শুধু হাউথি নয়, সোমালি জলদস্যুদের সক্রিয়তাও আবার বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কয়েক দিন আগেই ইয়েমেনের বালহাফ বন্দরের কাছে একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি ছোট নৌকায় এসে জাহাজে আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সাম্প্রতিক হামলার ক্ষেত্রেও জলদস্যুদের ভূমিকা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগরে আবার অশান্তি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিশ্ব অর্থনীতির উপর তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই হামলার পর গোটা বিশ্বের নজর এখন লোহিত সাগরের পরিস্থিতির দিকে।











