পাকিস্তানের (Pakistan) ক্ষমতার ভিতরে বড় ফাটলের ইঙ্গিত মিলছে বলে দাবি গোয়েন্দা সূত্রের। জানা গিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মুছে ফেলতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এই ঘটনাকে ঘিরে দেশটির বেসামরিক সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে (Pakistan)।
সূত্রের দাবি, এই ঘটনাই প্রমাণ করছে যে পাকিস্তানের (Pakistan) সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর প্রভাব কতটা বেশি। একই সঙ্গে এতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা সংবেদনশীল আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওয়াশিংটন নাকি ক্রমশ মনে করছে, ইসলামাবাদ নিজের নেতৃত্বকেই ঠিকভাবে সামলাতে পারছে না।
গোয়েন্দা মহলের মতে, এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে যখন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে, তখন এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, এমনকি ইসরায়েলের তরফ থেকেও আপত্তি উঠেছে বলে জানা গিয়েছে (Pakistan)।
সূত্রের আশঙ্কা, যদি এই মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে, তাহলে পশ্চিম এশিয়ায় আবার সংঘাত বাড়তে পারে। তার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে আরও চাপ তৈরি করবে। জ্বালানির ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে (Pakistan)।
এছাড়া, অস্থিরতা বাড়লে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পাকিস্তানে বিদেশনীতি নিয়ন্ত্রণের মূল ক্ষমতা এখনও সেনাবাহিনীর হাতেই রয়েছে এবং নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা সীমিত।
এই ঘটনার পর আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বেসামরিক নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে সেনাবাহিনীই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ভারতের দৃষ্টিতেও এই ঘটনা পাকিস্তানের বেসামরিক নেতৃত্বের দুর্বলতা ও স্বাধীনতার অভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে।
এই বিতর্ককে অনেকেই পাকিস্তানের নিজের তৈরি সঙ্কট বলেই মনে করছেন, যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে, যদিও সেনাবাহিনীর কৌশলগত অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।











