মালদহ দক্ষিণের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী (Abu Hasem Khan Chowdhury), যিনি ‘ডালু’ নামেই বেশি পরিচিত, আর নেই। বুধবার রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বয়স হয়েছিল ঊননব্বই বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি (Abu Hasem Khan Chowdhury)। তাঁর পুত্র ঈশা খান চৌধুরী বর্তমানে মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ।
রাজনৈতিক জীবনে ডালু দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন (Abu Hasem Khan Chowdhury)। তিনি প্রথমে তাঁর দাদা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবিএ গনিখান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দুই হাজার ছয়ের বিধানসভা ভোটের আগে গনিখান চৌধুরীর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে অবিভক্ত মালদহ লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন ডালু। পরে আসন পুনর্বিন্যাসের পর দুই হাজার ন’ , দুই হাজার চৌদ্দ এবং দুই হাজার উনিশ সালে মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তিনি জয়ী হন।
২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি (Abu Hasem Khan Chowdhury)। তার আগে উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে কালিয়াচক কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরে দুই হাজার এক সালেও একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন।
ডালুর পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর আর এক দাদা আবু নাসের খান চৌধুরী রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। দিদি রুবি নূরও ছিলেন কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক। পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মেও রাজনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
ডালুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। অধীর চৌধুরী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ডালুর মৃত্যু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বড় আঘাত। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিও শোক প্রকাশ করেছেন। জানানো হয়েছে, তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার রাজ্যের কংগ্রেস দফতরগুলিতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
ডালুর প্রয়াণে মালদহ সহ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রভাব আগামী দিনে কংগ্রেসের রাজনীতিতে বড় শূন্যতা তৈরি করবে বলেই মনে করছেন অনেকেই।













