মালদার মোথাবাড়িকাণ্ডে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে এই ঘটনার তদন্তভার জাতীয় তদন্ত সংস্থার হাতে তুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয়, এই তদন্ত হবে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) তদারকিতে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মামলার সমস্ত নথি এবং কেস ডায়েরি দ্রুত এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে। রাজ্য পুলিশকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
মোথাবাড়ির ঘটনায় ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। বিচারপতিদের উপর হামলার অভিযোগে এই মামলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকাতার এনআইএ আদালতেই এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলবে বলে জানানো হয়েছে।
সংবিধানের ১৪২ ধারা সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়। যখন আইনের সাধারণ প্রক্রিয়ায় কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, তখন এই বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্ট নিজে নির্দেশ দিতে পারে। গত দেড় মাসে দ্বিতীয়বার এই ধারা প্রয়োগ করল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। এর আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন নাম যাচাইয়ের দায়িত্ব বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দিতে এই ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল।
মোথাবাড়ির ঘটনায় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। ঘটনাস্থলে নথি যাচাই করতে গিয়ে কয়েকজন বিচারককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং তাঁদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। উদ্ধার করতে গিয়েও হামলার মুখে পড়তে হয় বলে জানা যায়। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে (Supreme Court)।
সাধারণত এনআইএ সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গি কার্যকলাপ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত করে। কিন্তু মোথাবাড়ির ঘটনা সেই তালিকায় পড়ে না। তবুও বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এনআইএ-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর এবার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তদন্তের প্রতিটি ধাপেই থাকবে তাদের কড়া নজরদারি।











