আমেরিকার শীর্ষ আদালত শুক্রবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে (Trump Tariff) বেআইনি ঘোষণা করেছে। এই রায়ের ফলে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর আরোপিত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক বাতিল হয়েছে। মামলাটি ঘিরে বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী নীল কাটিয়াল, যাঁর যুক্তির ভিত্তিতেই আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের (Trump Tariff) অবস্থান ধাক্কা খায়। জাতীয় নিরাপত্তা ও বাণিজ্য ঘাটতির যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা সংক্রান্ত আইন ব্যবহার করে শুল্ক বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ওই আইন প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত সংবিধানসম্মত নয়।
ছোট ব্যবসায়ীদের একটি গোষ্ঠী এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের (Trump Tariff) করে এবং তাদের আইনি সহায়তা দেয় একটি নাগরিক অধিকার সংস্থা। রায়ের পর নীল কাটিয়াল বলেন, সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ শক্তি এবং কর আরোপের অধিকার কেবল কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত। শিকাগোয় ভারতীয় অভিবাসী পরিবারে জন্ম নীলের। তাঁর বাবা চিকিৎসক ও মা প্রকৌশলী ছিলেন। তিনি ডার্টমাউথ কলেজ ও ইয়েল আইন বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ারের সহকারী হিসেবে কাজ করেন (Trump Tariff)। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে ভারপ্রাপ্ত সলিসিটর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন এবং সেই সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি সরকারের পক্ষে সওয়াল করেন।
মিনেসোটার জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলাতেও বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি মিলব্যাঙ্ক সংস্থার সহযোগী এবং জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় আইন কেন্দ্রের অধ্যাপক। আইন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মার্কিন বিচার দপ্তর তাঁকে এডমুন্ড র্যান্ডলফ পুরস্কারে সম্মানিত করেছে। এছাড়া ফোর্বস প্রকাশিত শীর্ষ আইনজীবীদের তালিকাতেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাঁর নাম উঠে এসেছে। নীলের বক্তব্য, এই রায় স্পষ্ট করে দিল যে কোনও প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে শুল্ক আরোপ করতে পারবেন না এবং সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নন।












