মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা বারোটা পেরোতেই ঢাকার শহিদ মিনারে (Bangladesh) ফুলের স্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে প্রথম শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। তাঁর পরপরই শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বার বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে আর একটি ঘটনা। প্রথমবারের মতো শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির শফিকুর রহমান।
রাষ্ট্রপতির পর রাত বারোটা সাত মিনিটে শহিদ মিনারে (Bangladesh) পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারেক রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাষা শহিদদের স্মরণে বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন তিনি এবং পরে মন্ত্রিসভার সদস্যেরাও শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান মহম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান (Bangladesh) পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিরোধী জোটের নেতারাও শহিদ মিনারে এসে শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের নেতৃত্ব দেন শফিকুর রহমান।
ভাষা দিবসের এই আচারকে অতীতে ইসলামবিরোধী বলে সমালোচনা করে এসেছে জামায়াত (Bangladesh)। তাই তাদের উপস্থিতি ঘিরে শহিদ মিনার চত্বরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ একাত্তরের প্রসঙ্গ তুলে স্লোগান দেন এবং পাল্টা স্লোগানও শোনা যায় জামায়াত কর্মীদের পক্ষ থেকে। পরে শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এবং বিরোধী দলের নেতা হিসাবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তাঁর দায়িত্ব, সেই কারণেই তিনি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।
ইতিহাস বলছে, ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান গঠনের পর পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের উপর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা থেকেই ক্ষোভের জন্ম। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলা ভাষাভাষীদের আন্দোলন ক্রমে ভাষা আন্দোলনের রূপ নেয় এবং উনিশশো বাহান্ন সালের একুশে ফেব্রুয়ারির আত্মবলিদান স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও জোরদার করে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতাতেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।











