অফিসার নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের ভূমিকায় (SIR) তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির শুরুতেই আদালত রাজ্যের নিয়োগ করা অফিসারদের পরিচয় ও দায়িত্ব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি সূর্য কান্ত জানতে চান, প্রয়োজনীয় অফিসার আদৌ নিয়োগ করা হয়েছে কি না (SIR) । রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আট হাজার পাঁচশ পাঁচ জন অফিসারের তথ্য ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, যে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য আপলোড হওয়ার কথা ছিল, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় (SIR) । এর পরেই গ্রুপ বি অফিসারদের বর্তমান অবস্থান এবং কমিশন উপযুক্ত অফিসার পেয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। কমিশনের আইনজীবী জানান, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং পর্যাপ্ত অফিসার না থাকায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত জানতে চায়, নয় ফেব্রুয়ারির নির্দেশের পরও কেন অফিসার দেওয়া হয়নি (SIR) । রাজ্যের হয়ে আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, গ্রুপ বি অফিসার দেওয়া হয়েছে। তখন আদালত এসডিএম স্তরের অফিসারদের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানায়, ইআরও পদের জন্য অফিসার প্রয়োজন এবং রাজ্যের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা প্রত্যাশিত ছিল।
রাজ্যের আর এক আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে জানান, পশ্চিমবঙ্গে এসডিও পদমর্যাদার অফিসার মাত্র ঊনসত্তর জন। এই কথা শুনে আদালত মন্তব্য করে, ইআরও পদে থাকা অফিসারদের বিচারকের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাই পর্যাপ্ত দক্ষ অফিসার থাকা জরুরি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, কমিশনের অফিসারদের অনেকেরই বাংলা ভাষায় দক্ষতা নেই, যা কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় দুই পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। প্রয়োজনে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বিচার বিভাগীয় অফিসার নিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা যেতে পারে বলে জানানো হয়। সেই অফিসার কমিশন ও রাজ্য উভয় পক্ষকে সহযোগিতা করবেন। প্রয়োজনে অন্য রাজ্য থেকেও অফিসার আনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই হতে হচ্ছে এবং অন্য কোনও রাজ্যে এমন পরিস্থিতি নেই। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, রাজ্য সরকার ও কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিচার বিভাগীয় অফিসার নিয়োগের বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হবে বলেও জানায় আদালত।












