বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতনে শোকের ছায়া নেমেছে সাহিত্যজগতে (Shankar)। প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়, যিনি শংকর (Shankar) নামেই পরিচিত, শুক্রবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল তিরানব্বই বছর। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি তাঁর সহজ ভাষা, তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ এবং জীবন্ত চরিত্রের মাধ্যমে বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন।
হাওড়ার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া শংকরের (Shankar) সাহিত্যযাত্রা শুরু হয় বাস্তব জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে। কাজের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতেই তিনি ব্যারিস্টার নোয়েল বারওয়েলের ক্লার্ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি লেখেন তাঁর প্রথম উপন্যাস কত অজানারে। প্রথম বই প্রকাশের পরই পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেন তিনি এবং দ্রুত জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান।
শংকরের (Shankar) নাম উচ্চারিত হলেই মনে পড়ে তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি চৌরঙ্গী। মহানগর কলকাতার হোটেল জীবনের পটভূমিতে লেখা এই উপন্যাসে শাহজাহান হোটেল এবং সাটা বোস, মার্কো পোলো, করবী গুহর মতো চরিত্র আজও পাঠকের মনে জীবন্ত। এই উপন্যাসের জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে পরে তা চলচ্চিত্র ও নাট্যমঞ্চে সমানভাবে সাফল্য পায়।
শংকরের লেখনী মুগ্ধ করেছিল বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়-কেও। তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সীমাবদ্ধ এবং জনঅরণ্য বাংলা সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। মধ্যবিত্ত জীবনের স্বপ্ন, সাফল্যের লড়াই এবং নৈতিক টানাপোড়েন তিনি অত্যন্ত বাস্তবভাবে তুলে ধরেছিলেন। মুক্তির স্বাদ, চরণ ছুঁয়ে যাই এবং তিন ভুবনের কথা সহ একাধিক গ্রন্থে তিনি সমাজ ও মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্বকে গভীরভাবে প্রকাশ করেছেন।
গল্প ও উপন্যাসের পাশাপাশি গবেষণামূলক লেখাতেও তিনি সমান দক্ষ ছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দ-কে নিয়ে তাঁর লেখা অচেনা অজানা বিবেকানন্দ এবং আমি বিবেকানন্দ বলছি গ্রন্থে স্বামীজির মানবিক দিক এবং জীবনদর্শন নতুনভাবে উঠে এসেছে। তাঁর লেখায় ইতিহাস ও মানবিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়।
সাহিত্যজীবনে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার সহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হন এবং বঙ্গবিভূষণেও সম্মানিত হন। একসময় পশ্চিমবঙ্গের শেরিফ পদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। সময় বদলালেও তাঁর লেখা আজও সমান প্রাসঙ্গিক এবং বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে ভবিষ্যতেও পাঠকদের পথ দেখাবে।







