ভোটের মুখে একটি বৈঠক ঘিরে তোলপাড় বাম শিবির। হোটেলের ঘরে বৈঠকের পর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-কে দলের অন্দরে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। শরিক দল তো বটেই, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও প্রশ্ন ওঠে, হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) সঙ্গে বৈঠক কতটা প্রয়োজন ছিল। জোটের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেলেও এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন হুমায়ুন।
তৃণমূল ছাড়লেও এখনও ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) । তিনি নিজের দল ‘জনতা ইউনাইটেড পার্টি’ গড়েছেন এবং আগেই জানিয়েছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চান। জোটের বিষয়ে সিপিএম, মিম ও আইএসএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু বামফ্রন্টের বৈঠকে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি ওঠায় সেই সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্য।
তবে জোট না হলেও ব্যক্তি সেলিমকে সমর্থন করতে চান বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন (Humayun Kabir) । পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী-কেও সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে হুমায়ুন বলেন, অধীরের মতো নেতা বিধানসভায় দরকার। তিনি যদি কংগ্রেসের প্রতীক নিয়ে লড়েন, তবে তাঁকে হারানোর কোনও চেষ্টা করবেন না, বরং জেতানোর চেষ্টা করবেন। একইভাবে, সেলিম যদি মুর্শিদাবাদের কোনও আসনে লড়েন, তবে তাঁকেও সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন।
হুমায়ুন স্পষ্ট বলেছেন, তিনি বামফ্রন্টের সঙ্গে নেই। একই সঙ্গে বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক-কে কটাক্ষ করে বলেন, এই দলটির আর কোনও অস্তিত্ব নেই। উল্লেখ্য, সম্প্রতি বামফ্রন্টের বৈঠকে হুমায়ুনের সঙ্গে সেলিমের বৈঠক নিয়ে আপত্তি তুলেছিল ফরওয়ার্ড ব্লক।
এদিকে হুমায়ুন কংগ্রেস নেতৃত্ব নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা করেছেন। যদিও এই অভিযোগের কোনও প্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে আনেননি।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। জোট ভেস্তে গেলেও ব্যক্তি পর্যায়ে সমর্থনের এই বার্তা আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।









