দিল্লির লাল কেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Delhi Blast) ঘটনায় পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের নাম উঠে এল রাষ্ট্রসংঘের একটি রিপোর্টে। রাষ্ট্রসংঘের সন্ত্রাস-বিরোধী পর্যবেক্ষণ দলের সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের ৯ নভেম্বরের লাল কেল্লা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে মাসুদ আজাহারের সংগঠন। সম্প্রতি রিপোর্টটি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জমা পড়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, জইশ-ই-মহম্মদ সম্প্রতি মহিলাদের নিয়ে একটি নতুন শাখা গঠন করেছে। ওই শাখার নাম রাখা হয়েছে ‘জামাত-উল-মোমিনাত’। গত ৮ অক্টোবর জইশ প্রধান মাসুদ আজাহার এই শাখা গঠনের কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার উদ্দেশ্যেই এই মহিলা ব্রিগেড তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে (Delhi Blast)। জানা গিয়েছে, নতুন এই শাখা জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতে নিজেদের কার্যকলাপ বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের মতাদর্শ ছড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ধর্মের নামে মহিলাদের প্রভাবিত করে সংগঠনে টানার চেষ্টা করা হবে (Delhi Blast)। বিশেষ করে শিক্ষিত ও শহুরে মুসলিম মহিলাদের লক্ষ্য করা হতে পারে। সূত্রের খবর, এই মহিলা ব্রিগেডের নেতৃত্বে রয়েছেন মাসুদ আজাহারের বোন সাদিয়া আজাহার। অপারেশন সিঁদুরে তাঁর স্বামী ইউসুফের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই সংগঠনের কয়েকজন শীর্ষ নেতার স্ত্রীরা এই ব্রিগেডে যুক্ত হয়েছেন বলেও খবর।
ভাওয়ালপুর, করাচি, মুজফফরাবাদ-সহ বিভিন্ন এলাকার আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদেরও দলে টানার চেষ্টা করছে জইশ। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্ট সামনে আসার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা মহলে। দিল্লি বিস্ফোরণ এবং মহিলা ব্রিগেড গঠন—দুই বিষয়েই এখন নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।










