কানপুরের ভিআইপি রোডে ভয়াবহ ল্যাম্বারগিনি দুর্ঘটনার (Kanpur Accident) ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন তামাক ব্যবসায়ী কেকে মিশ্রের ছেলে শিবম মিশ্র। বৃহস্পতিবার সকালে কানপুরের একটি হাসপাতাল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দুর্ঘটনার সময় (Kanpur Accident) শিবমই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো এবং মানুষের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার একে শ্রীবাস্তব জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। তারপর হাসপাতাল থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে বুধবার মোহন নামে এক ব্যক্তি আদালতে এসে দাবি করেন, দুর্ঘটনার সময় তিনিই কালো রঙের ল্যাম্বারগিনি চালাচ্ছিলেন (Kanpur Accident)। তাঁর বক্তব্য, গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ শিবমের খিঁচুনি ওঠে এবং তিনি মোহনের উপর পড়ে যান। সেই সময় এক হাত দিয়ে শিবমকে সামলাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। এর ফলেই দুর্ঘটনা ঘটে বলে দাবি মোহনের। তবে পুলিশ আদালতে জানায়, মোহনের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। তাই তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেয়নি আদালত।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি কানপুরের ব্যস্ত ভিআইপি রোডে দ্রুত গতির একটি ল্যাম্বারগিনি আচমকা ঢুকে একের পর এক পথচারীকে ধাক্কা দেয়। প্রায় ১০ কোটি টাকার সেই বিলাসবহুল গাড়ির ধাক্কায় এক বাইক আরোহী প্রায় ১০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন। এই ঘটনায় মোট ছ’জন আহত হন। অভিযোগ ওঠে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন শিবম মিশ্র।
কানপুরের পরিচিত তামাক ব্যবসায়ী কেকে মিশ্রের ছেলে হওয়ায় প্রথম দিকে পুলিশ এফআইআর নিতে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালে কেকে মিশ্রের বাড়িতে আয়কর দপ্তরের হানা নিয়েও তিনি খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ঘটনার চার দিন পর শিবমকে গ্রেপ্তার করা হল।
এই ঘটনায় শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আদালতে পেশের পর কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই এখন নজর।













