নিজেদের প্রয়োজনে পাকিস্তানকে ব্যবহার করেছে আমেরিকা। কাজ শেষ হয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে টয়লেট পেপারের মতো। এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ (Khawaja Asif)। আর সেটাও নিজের দেশের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
খাজা আসিফ (Khawaja Asif) বলেন, ১৯৯৯ সালের পর থেকে বিশেষ করে আফগানিস্তান ইস্যুতে আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে পাকিস্তান। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। তাঁর মতে, ইসলামাবাদ বড় ভুল করেছিল এবং তার মাশুল এখনও গুনতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান দাবি করে এসেছে যে, ইসলাম রক্ষার জন্য আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয়েছিল। তবে খাজা আসিফ সেই ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। তাঁর মতে, জেহাদের নামে যে লড়াই হয়েছিল, তা ভ্রান্তিকর ও ধ্বংসাত্মক ছিল।
তিনি (Khawaja Asif) আরও দাবি করেন, আশির দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বিরোধী লড়াই কোনও ধর্মীয় কারণে হয়নি। এর পিছনে ছিল আমেরিকার কূটনৈতিক স্বার্থ। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়া এমন কিছু করেনি যার জন্য জেহাদ ঘোষণা করতে হতো।
খাজা আসিফ (Khawaja Asif) ১৯৯৯ সালের পরবর্তী সময় এবং বিশেষ করে ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আমেরিকাকে সমর্থন করে পাকিস্তান তালিবানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কিন্তু পরে যখন দেশ মৌলবাদ ও অর্থনৈতিক চাপে জর্জরিত হয়ে পড়ে, তখন আমেরিকা পাশে থাকেনি। তাঁর কথায়, “আমরা যে ক্ষতির মুখে পড়েছি, তা কখনও পূরণ হবে না।”
এই প্রসঙ্গে তিনি পাকিস্তানের প্রাক্তন শাসক জিয়া-উল-হক এবং পারভেজ মুশারফের নীতিকেও দায়ী করেন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের কড়া সমালোচনা করে বলেন, আমেরিকা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে পরে পাকিস্তানকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে পাকিস্তানের প্রতি তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখা গিয়েছে। তার মধ্যেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন মন্তব্যে হোয়াইট হাউস কী প্রতিক্রিয়া দেয়, এখন সেটাই দেখার।











