মাধ্যমিক পরীক্ষার হলে নকল করাতে সাহায্যের অভিযোগে সাসপেন্ড করা হল এক শিক্ষককে (Maldah)। অভিযুক্ত শিক্ষক আবার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বলেও পরিচিত। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ জেলার মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর বিএসএস উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সানোয়ার আলি পারভেজ। তিনি ওই স্কুলের (Maldah) সহকারী শিক্ষক। অভিযোগ, গত ৬ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন তিনি পরীক্ষার্থীদের টুকলি করতে সাহায্য করেন। পরীক্ষার হলে একটি কাগজে নিজে উত্তর লিখে তা দেখে পরীক্ষার্থীদের উত্তর বলে দেন তিনি।
সূত্রের খবর, যেখানে ওই শিক্ষকের গার্ড দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে তিনি না থেকে পাশের একটি পরীক্ষাকক্ষে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ, সেই ঘরে একটি লুজ শিট হাতে নিয়ে প্রশ্ন দেখে উত্তর লিখে ফেলেন (Maldah)। যেহেতু তাঁর নিজের বিষয়ের পরীক্ষা ছিল, তাই খুব দ্রুত উত্তর লিখে ফেলেন তিনি। এরপর সেই কাগজ দেখে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন ধরে ধরে উত্তর বলে দিতে থাকেন। অভিযোগ, গোটা পরীক্ষা চলাকালীন এই ভাবেই চলছিল নকল করানোর কাজ।
এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও তুলে রাখা হয় স্কুলেরই কারও মাধ্যমে। পরে সেই ছবি ও ভিডিও মধ্য শিক্ষা পর্ষদের হাতে পৌঁছয় (Maldah)। বিষয়টি সামনে আসতেই কড়া পদক্ষেপ নেয় পর্ষদ। সানোয়ার আলি পারভেজকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি একই ধরনের অভিযোগে আরও আট জন শিক্ষককেও সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সাসপেনশন বহাল থাকবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক অতীন্দ্রনাথ দাস কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই এখন মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, সানোয়ার আলি পারভেজ মানিকচক ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। এই নিয়েই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির তরফে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে এই ঘটনায়।
বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সুভাষ যাদব বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। বেকাররা চাকরি পাচ্ছেন না, পড়াশোনার প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ কমছে। তাঁর দাবি, তৃণমূল নেতা হওয়ায় ওই শিক্ষক ভেবেছিলেন যা খুশি করা যাবে। তবে পর্ষদ তাঁকে সাসপেন্ড করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই মন্তব্য করেন তিনি।










