দিল্লির বুরারি কাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি ফের উসকে দিল উত্তরপ্রদেশের মথুরার (Mathura) একটি ঘটনা। ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার হল একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের দেহ। মৃতদের মধ্যে রয়েছে তিনটি ছোট শিশু। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে মথুরা জেলার (Mathura) মহাবন থানা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই বাড়ি থেকে কোনও শব্দ না পাওয়ায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় জানালা দিয়ে উঁকি দেন তাঁরা (Mathura)। ভিতরে ঢুকেই দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের তিন সন্তান মেঝেতে নিথর হয়ে পড়ে রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পাঁচটি দেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ঘরের মধ্যেই একটি দুধের গ্লাস উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি রান্নাঘরের দেওয়ালে লেখা ছিল, ‘আমরা আত্মহত্যা করছি’। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুধে বিষ মিশিয়ে তা পান করেই আত্মঘাতী হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে কী কারণে এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা এখনও স্পষ্ট নয় (Mathura)।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম মনীশ। বয়স ৩৫ বছর। পেশায় তিনি কৃষক। তাঁর স্ত্রী সীমা এবং তাঁদের তিন সন্তান—পাঁচ বছরের হানি, চার বছরের প্রিয়াংশী ও দুই বছরের পঙ্কজেরও মৃত্যু হয়েছে। মনীশের বাড়ির কাছেই তাঁর দুই ভাই থাকতেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পরিবারের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে মনীশ ও সীমার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে কোনও অশান্তির কথা কখনও শোনা যায়নি। কোনও আর্থিক সমস্যার কথাও জানা যায়নি বলে দাবি পরিবারের। মঙ্গলবার সকালে দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ থাকায় কৌতূহল থেকেই জানালা দিয়ে উঁকি দিয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। তখনই সামনে আসে এই ভয়াবহ দৃশ্য।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৮ সালে দিল্লির বুরারি এলাকায় একই ধরনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সে বার এক বাড়ি থেকে ১১ জনের দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে উঠে আসে, তান্ত্রিক বিশ্বাসের প্রভাবে গণআত্মহত্যা করেছিল ওই পরিবার। মথুরার ঘটনায় সেই স্মৃতিই নতুন করে ফিরে এল বলে মনে করছেন অনেকেই।












