চেক বাউন্স মামলায় শেষ পর্যন্ত দিল্লির তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করলেন অভিনেতা রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)। আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেন তিনি। প্রায় ২.৫ কোটি টাকার এই মামলায় আরও সময় চেয়ে করা তাঁর শেষ আবেদন খারিজ করে দেয় দিল্লি হাই কোর্ট। তার পরেই আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয় অভিনেতাকে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের এক অধ্যায়ের অবসান হল (Rajpal Yadav)।
এই মামলা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। সেই সময় রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav) নিজের পরিচালিত ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ তৈরির জন্য মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। আর্থিক সংকটে পড়েন অভিনেতা। ঋণের টাকা শোধ করতে না পারায় তাঁর দেওয়া একাধিক চেক বাউন্স করে। এরপর নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় (Rajpal Yadav)।
২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই মামলায় রাজপাল যাদব এবং তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁদের ছ’মাসের কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। যদিও সেই রায়ের বিরুদ্ধে একাধিকবার আপিল করেন অভিনেতা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে চলা মামলায় কোনও স্থায়ী স্বস্তি পাননি তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুদ-সহ বকেয়া টাকার অঙ্ক বেড়ে প্রায় ৯ কোটি টাকায় পৌঁছয় বলে জানা যায়।
এর মধ্যে রাজপাল যাদব ধাপে ধাপে বকেয়া অর্থের কিছু অংশ শোধ করেন। চলতি বছর ২০২৫ সালেও তিনি ৭৫ লক্ষ টাকা জমা দেন। তবে পুরো টাকা জোগাড় করতে না পারায় আদালতের কাছে আরও সময় চান তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা সেই আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও ব্যক্তির খ্যাতি বা পরিচিতির জন্য বারবার সময় দেওয়া যায় না। এরপরই তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আত্মসমর্পণের আগে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রাজপাল যাদব। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তাঁর হাতে আর কোনও উপায় নেই। টাকা জোগাড় করতে না পেরে ভেঙে পড়েন অভিনেতা। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মেনেই তাঁকে তিহার জেলে যেতে হয়।








