নদিয়ার (Nadia) কোতোয়ালি থানার কেস নম্বর ১৪৪/২৬ ঘিরে এখন গোটা রাজ্য জুড়ে তীব্র চর্চা। মায়ের চক্ষুদান করেছিলেন এক স্কুল শিক্ষক। অথচ সেই ঘটনাকেই ঘিরে উঠল ভয়াবহ অভিযোগ—মায়ের চোখ নাকি বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হয়েছেন ওই শিক্ষক এবং তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্য (Nadia)। আদালত তাঁদের পুলিশি হেফাজতেও পাঠিয়েছে।
ধৃত শিক্ষকের নাম আমির চাঁদ আলি। পেশায় স্কুল শিক্ষক হলেও সমাজকর্মী হিসেবেও এলাকায় পরিচিত তিনি। নদিয়ার কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা আমির চাঁদের মায়ের সম্প্রতি মৃত্যু হয়। জীবিত থাকাকালীনই তাঁর মা লিখিত সম্মতি দিয়ে গিয়েছিলেন, মৃত্যুর পরে যেন তাঁর চক্ষু দান করা হয় (Nadia)। সেই মতোই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্নিয়া দান করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কর্নিয়ার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ছ’জন মানুষ নতুন করে দৃষ্টি ফিরে পেয়েছেন।
চক্ষুদানের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও গ্রামের কয়েক জন থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, আমির চাঁদ নাকি তাঁর মায়ের চোখ বিক্রি করে দিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের পাঁচ জনকে আটক করে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পেশ করা হয়।
আমির চাঁদের আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস জানান (Nadia), ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি তাঁর। আইনজীবীর বক্তব্য, ২০২৪ সালেই আমির চাঁদের মা চক্ষুদানের সম্মতি দিয়েছিলেন। কোনও রকম আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নই নেই। অথচ এই মানবিক কাজ করতে গিয়েই গোটা পরিবারকে গ্রেফতার হতে হল।
এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক আইনজীবী। আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যেসব ধারায় মামলা করা হয়েছে, সেখানে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা হতে পারে। এই ধরনের মামলায় সরাসরি গ্রেফতার না করে নোটিস দিয়ে ডাকার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া মানা হয়নি। মামলাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। রিপোর্ট জমা পড়ার পর আদালত থেকে জামিন মিলবে বলেই আশাবাদী তিনি।
গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য, আমির চাঁদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই জমি ও রাস্তা নিয়ে বিবাদ চলছিল। অভিযোগকারীর সঙ্গে ওই বিবাদের যোগ থাকতে পারে বলেই স্থানীয়দের ধারণা।
মানবাধিকার কর্মী রঞ্জিত শূর এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, পুলিশের এই পদক্ষেপে চক্ষুদান ও অঙ্গদান আন্দোলনের মারাত্মক ক্ষতি হল। মানুষ ভয় পাবে। ভবিষ্যতে কেউ চক্ষুদান করতে গেলে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। তিনি আরও বলেন, কোন ধারা কার্যকর হবে, তা বিচারকের বিচার্য বিষয়। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতর ও সমাজকল্যাণ দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।













