উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ল্যাম্বরগিনি দুর্ঘটনা (Kanpur Accident) নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কে এ বার বড় মোড় এল। প্রথমে যে FIR-এ চালককে ‘অজ্ঞাত’ বলা হয়েছিল, সেখানে পরে শিবম মিশ্রের নাম যোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
রবিবার বিকেলে কানপুরের গ্বাল টোলি এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি (Kanpur Accident) ঘটে। অভিযোগ, একটি ল্যাম্বরগিনি গাড়ি হঠাৎ রাস্তা ছেড়ে ফুটপাথে উঠে যায় এবং সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েক জনকে ধাক্কা মারে। এতে মোহাম্মদ তৌফিক নামে এক পথচারীর পায়ে গুরুতর চোট লাগে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
দুর্ঘটনার (Kanpur Accident) পর প্রথম যে FIR দায়ের করা হয়, সেখানে শুধু ল্যাম্বরগিনি গাড়ির উল্লেখ ছিল, চালকের নাম লেখা ছিল ‘অজ্ঞাত’। কিন্তু ঘটনাস্থলের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর একটি বিলাসবহুল গাড়ি থেকে এক ব্যক্তিকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি তামাক ব্যবসায়ী এ কে মিশ্রের ছেলে শিবম মিশ্র। যদিও শুরুতে তাঁর নাম FIR-এ ছিল না।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গাড়িটি বেপরোয়া ও অসাবধানভাবে চালানো হচ্ছিল। FIR-এ উল্লেখ রয়েছে, ল্যাম্বরগিনি প্রথমে একটি দাঁড়িয়ে থাকা বুলেট মোটরসাইকেলকে ধাক্কা মারে, তারপর পথচারীকে আঘাত করে। এতে গুরুতর চোট পান অভিযোগকারী।
দুর্ঘটনার পর আরও কয়েকটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে দেখা যায়, শিবম মিশ্রকে বডিগার্ডদের সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে কোনও মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। বডিগার্ডদের দাবি, দুর্ঘটনার পর শিবম নাকি সামান্য হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন, তাই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ দিকে দুর্ঘটনার পর গাড়িটি থানায় নিয়ে যাওয়া হলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ল্যাম্বরগিনি গাড়িটিকে একটি চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন এতে আপত্তি জানান। একই সঙ্গে দেখা যায়, অভিযুক্তের বডিগার্ডরা গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতের পরিবারের অভিযোগ, থানার মধ্যেই বডিগার্ডরা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন, অথচ পুলিশ তাতে হস্তক্ষেপ করেনি।
এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। এক দিকে আহত পথচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, অন্য দিকে বিলাসবহুল গাড়িটিকে বিশেষভাবে রক্ষা করা হচ্ছে—এই অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে।
ডিসিপি অতুল শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, চালকের অসুস্থতার দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “চালকের আগে থেকে এমন অসুস্থতার ইতিহাস আছে কি না, তা আমরা পরীক্ষা করে দেখছি।” পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, যদি এমন সমস্যা থেকে থাকে, তবে কী ভাবে তিনি এমন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
এখন আহত তৌফিকের পরিবার কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ও থানার ঘটনার পরিসংখ্যান দেখে মনে হচ্ছে, এই ঘটনাকে সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনার মতোভাবে দেখা হচ্ছে না।













