এপস্টিন ফাইলস ঘিরে নতুন করে ওঠা অভিযোগ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন বিল গেটস (Bill Gates)। স্পষ্ট ভাষায় তিনি অস্বীকার করেছেন, রুশ মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে কোনও যৌনরোগে আক্রান্ত হওয়ার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সদ্য প্রকাশ্যে আসা কিছু নথিতে জেফ্রি এপস্টিনের নামে লেখা ইমেলে এই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়।
নাইন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস (Bill Gates) বলেন, ওই ইমেলগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং কোনও দিনই পাঠানো হয়নি। তাঁর দাবি, এপস্টিন নিজেই নিজের কাছে ওই ইমেল লিখেছিল। গেটস (Bill Gates) বলেন, ওই লেখার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। তিনি স্বীকার করেন, এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার সিদ্ধান্ত ছিল তাঁর জীবনের বড় ভুল এবং সেই সময়ের জন্য তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত।
ওই ইমেলগুলিতে দাবি করা হয়েছিল, রুশ মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্কের পর বিল গেটস (Bill Gates) নাকি যৌনরোগে আক্রান্ত হন এবং অ্যান্টিবায়োটিক চেয়েছিলেন। এমনকী তাঁর তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসকে বিষয়টি না জানিয়ে ওষুধ দেওয়ার কথাও লেখা ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং বিল গেটস একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
এপস্টিন ফাইলস প্রকাশ্যে আসার পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসও। তিনি বলেন, ওই ইমেলগুলির বিষয়বস্তু হৃদয়বিদারক। সম্ভাব্য নির্যাতিতদের কথা পড়ে তাঁর নিজের মেয়েদের কথাই মনে পড়েছে বলে জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে বিল গেটস আরও জানান, এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সীমিত ছিল কেবল নৈশভোজে। তিনি কখনও এপস্টিনের দ্বীপে যাননি এবং কোনও মহিলার সঙ্গেও তাঁর পরিচয় হয়নি বলে স্পষ্ট করেন। গেটস বলেন, “আমি ওর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য অনুতপ্ত। তবে আমার কোনও কাজই ওই ধরনের আচরণের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।”
গেটসের বক্তব্য, যত তথ্য সামনে আসবে, ততই পরিষ্কার হবে যে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ভুল সিদ্ধান্ত হলেও, অভিযোগে যেসব কাজের কথা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি ফের একবার জোর দিয়ে বলেন, ওই ইমেলগুলিতে যা লেখা হয়েছে, তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।
উল্লেখ্য, সদ্য প্রকাশিত নথিতে ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই তারিখে লেখা এপস্টিনের দুটি ইমেল রয়েছে। তার একটিতে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগপত্রের মতো ভাষায় লেখা হয় এবং সেখানে গেটসের জন্য ওষুধ জোগাড় করার কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে এই সব দাবির পক্ষে কোনও অতিরিক্ত প্রমাণ সামনে আসেনি।





