মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যা নির্দেশ দিয়েছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেছেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনা সর্বাধিনায়ক আসিফ মুনির। উঠতে বললে উঠেছেন, বসতে বললে বসেছেন। কিন্তু এত চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত কোনও লাভ হল না। বরং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করে পাকিস্তানের বুকে বড় ধাক্কা দিল আমেরিকা।
দীর্ঘ টানাপড়েনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি। এই চুক্তি অনুযায়ী, আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমে হয়েছে ১৮ শতাংশ। আগে এই হার ছিল ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে পাকিস্তানকে এখনও আমেরিকার বাজারে বাণিজ্য করতে ১৯ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ, পাকিস্তানের (Pakistan) তুলনায় কম শুল্কেই আমেরিকায় ব্যবসা করতে পারবে ভারত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের (Pakistan) রাজনৈতিক মহলে এবং সমাজমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। নেটিজেনদের প্রশ্ন, কোনও রাজনৈতিক ছাড় না দিয়েও ভারত এই সুবিধা পেল, অথচ পাকিস্তান নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়েও কিছুই পেল না। এই ক্ষোভের আঁচ সরাসরি পড়েছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিফ মুনিরের উপর।
সমাজমাধ্যমে উমর আলি নামে এক পাকিস্তানি (Pakistan) নেটিজেন কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্প শাহবাজ ও মুনিরের সঙ্গে রক্ষিতা বা উপপত্নীর মতো আচরণ করেছেন। তাঁর লেখায় ব্যঙ্গ করে বলা হয়েছে, সব রকম সুবিধা নেওয়ার পর ট্রাম্প শেষে বলে দিয়েছেন, সিদ্ধান্ত পরিবারের, তাই পাকিস্তানকে(Pakistan) ভুলে যেতে হবে। ওই নেটিজেন একটি ব্যঙ্গচিত্রও শেয়ার করেছেন, যেখানে বিরল খনিজের বাক্স হাতে চোখের জলে ভাসছেন আসিফ মুনির। পিছনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আর এক নেটিজেন লিখেছেন, ট্রাম্পকে খুশি করতে গাজায় সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়ার পরেও পাকিস্তানের উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকল। অথচ ভারতের ক্ষেত্রে তা কমে হল ১৮ শতাংশ। পাকিস্তানের বৈদেশিক নীতির এই ‘সাফল্য’ নিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন।
অন্য একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, গত ছয় মাসে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ওমান এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এবার আমেরিকার সঙ্গেও শুল্ক কমল। সবচেয়ে বড় কথা, কাউকে মাথা নত না করেই ভারত এই সুবিধা আদায় করেছে। অথচ পাকিস্তান তোষামোদ করেও কিছুই পায়নি। এই ঘটনাকে লজ্জাজনক বলেই মনে করছেন অনেকেই।












