প্রেক্ষাপট কিছুটা আগেই তৈরি ছিল। নিজেই জানিয়েছিলেন, তিন দশক পর আবার আদালতে কথা বলতে পারেন। বুধবার দুপুরে সেই কথাই বাস্তবে রূপ নিল। সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজেই সওয়াল করলেন। তবে আইনজীবীর ভূমিকায় নয়, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই তাঁর এই বক্তব্য।
প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হওয়ার সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দেখা যায় একেবারে সামনের সারিতে, আইনজীবীদের পাশে বসে থাকতে। সওয়াল-জবাব চলাকালীন তিনি নিজেই পাঁচ মিনিট সময় চেয়ে নেন বক্তব্য রাখার জন্য। বিচারপতিরা তাঁকে সেই অনুমতি দেন।
এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের হয়ে কথা বলছেন। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর পদ্ধতির মাধ্যমে বহু বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে। কোথাও কোনও মেয়ের বিয়ে হয়ে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ায় বা পদবি বদলানোর কারণে নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। আবার কেউ অন্যত্র ফ্ল্যাট কিনে থাকছেন বলে তাঁর নামও বাদ দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্য চায় কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন কোনওভাবেই বাদ না যায়।
তিনি (Mamata Banerjee) আরও জানান, এই বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ছ’টি চিঠি পাঠিয়েছেন, কিন্তু একটিরও কোনও উত্তর পাননি। কীভাবে এই প্রক্রিয়া চলছে, তা বুঝতে পারছেন না বলেও আদালতে জানান তিনি। আবেগঘন কণ্ঠে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারের জন্য তিনি আবেদন জানাচ্ছেন।
এদিন তিনি আরও অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড গ্রহণ করা হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ছে বলে তাঁর দাবি।












