ফের পুরুলিয়ায় মাওবাদী পোস্টার (Mao Poster) ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। বুধবার সকালে জেলার বোরো থানা এলাকার আঁকরো অঞ্চলে সাদা কাগজে লাল কালিতে হাতে লেখা একাধিক পোস্টার চোখে পড়ে। পোস্টারগুলিতে লেখা ছিল, ‘২০২৬ এবার খেলবে মাওবাদীরা, বনধ না মানলেই মৃত্যুদণ্ড’। এই লেখা ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পোস্টারগুলি (Mao Poster) খুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বোরো থানার পুলিশ। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি জানিয়েছেন, মাওবাদীদের আসল পোস্টারে সাধারণত নিচে স্পষ্ট ভাবে ‘সিপিআই (মাওবাদী)’ (Mao Poster) লেখা থাকে। এই পোস্টারগুলিতে সেই উল্লেখ নেই। তাই পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আতঙ্ক ছড়ানোর জন্যই দুষ্কৃতীরা এই কাজ করেছে।
এক সময় বাম আমলে জঙ্গলমহলের চার জেলা—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে নিয়মিত মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধার হতো (Mao Poster)। তবে রাজ্যে ক্ষমতার বদলের পর উন্নয়ন এবং যৌথ বাহিনীর লাগাতার অভিযানে জঙ্গলমহলে মাওবাদী প্রভাব কার্যত ভেঙে পড়ে। পুলিশ সূত্রের দাবি, এই মুহূর্তে জেলায় মাওবাদীদের কোনও সক্রিয় উপস্থিতি নেই।
তবু মাঝেমধ্যেই পুরুলিয়ায় এ ধরনের ‘মাওবাদী’ পোস্টার উদ্ধার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভোটের আগে এমন ঘটনা নতুন নয় বলেই জানাচ্ছেন ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের মতে, এক সময় যাঁরা মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বা লিঙ্কম্যান হিসেবে কাজ করতেন, তাঁদের অনেকেই পরে সরকারি পুনর্বাসন বা কাজ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। প্রশাসনের নজর কাড়তেই ভোটের আগে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হিসেবে এই ধরনের পোস্টার দেওয়া হয়ে থাকে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেও এমন পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সামনেই আবার বিধানসভা নির্বাচন। তাই ভোটের আগে ফের অশান্তির আবহ তৈরির চেষ্টা কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুরুলিয়া জেলা পুলিশের বক্তব্য, আসল মাওবাদী পোস্টারের লেখা পরিষ্কার এবং নির্দিষ্ট দাবি-দাওয়া থাকে। এখানে সেই রকম কিছু নেই। ফলে বিভ্রান্তি এবং আতঙ্ক ছড়ানোই এই ঘটনার মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছে পুলিশ।












