ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত ঘিরে যখন তোলপাড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহল, তখন আইসিসিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রাক্তন ক্রিকেটার বাসিত আলি। তাঁর বক্তব্য, সরকারের নির্দেশে যদি কোনও ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে শুধুমাত্র পাকিস্তানকে শাস্তির হুমকি দেওয়া একেবারেই দ্বিচারিতা।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে আইসিসি ভাবনাচিন্তা করছে। বিষয়টি নিয়ে চলতি সপ্তাহেই বৈঠকে বসতে পারে আইসিসির বোর্ড (Pakistan)।
এর আগেই আইসিসি, পাকিস্তান (Pakistan) ক্রিকেট বোর্ড ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী হাইব্রিড মডেলে শ্রীলঙ্কায় খেলতে রাজি হয়েছিল পাকিস্তান। ভারত ম্যাচও ছিল সেই সূচির মধ্যেই। কিন্তু রবিবার পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দেয়, ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না তাদের পুরুষ দল।
এই সিদ্ধান্তের পর ইউটিউব চ্যানেল ‘গেম প্ল্যান’-এ মুখ খুলেছেন বাসিত আলি। তিনি বলেন, “এই সংস্কৃতি ভারতই শুরু করেছে। হাত মেলানো বাধ্যতামূলক নয়। ভারতীয় ক্রিকেটাররা পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করেছিল, সে কথা আমি তুলছিও না। কিন্তু এশিয়া কাপে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে রাজি হয়নি ভারত। কারণ ভারত সরকার অনুমতি দেয়নি।”
বাসিতের প্রশ্ন, “এখন আমাদের সরকার যদি বলে ম্যাচ খেলব না, তা হলে আমরা দোষী হয়ে গেলাম? ভারত করলে ঠিক, পাকিস্তান করলে অপরাধ? যদি ভারত পারে, পাকিস্তানও পারে।”
তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ না খেলায় শুধু পয়েন্ট কাটা গিয়েছিল। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচ ছাড়লেও তাদের বিরুদ্ধে কোনও বড় শাস্তি হয়নি। তা হলে এখন পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করার কথা উঠছে কেন? তাঁর ভাষায়, “করে দেখাক!”
বাসিত আরও বলেন, বিসিসিআই যখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে যায়নি, তখন কি তারা আইসিসিকে লিখিত চিঠি দিয়েছিল? আইসিসি যদি দেখাতে পারে, তা হলে তিনি মানবেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, পাকিস্তান সরকার যা বলবে, সেটাই মানতে বাধ্য পিসিবি।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের সময় দু’দলকেই মাঠে হাজির থাকতে হয় টসের জন্য। সূত্রের খবর, ভারতীয় দল নির্ধারিত সময়ে কলম্বোয় হাজির থাকবে এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব টসে অংশ নেবেন। পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগা উপস্থিত না থাকলে ভারত দুই পয়েন্ট পাবে। তবে তার বাইরে আর কী শাস্তি হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তান কেন এই ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সরকার বা পিসিবি এখনও প্রকাশ্যে জানায়নি। তবে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি আগেই বলেছিলেন, বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে আইসিসি পক্ষপাতিত্ব করেছে। সেই কারণেই বিশ্বকাপ থেকে আংশিক বা পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর কথাও ভাবছে পাকিস্তান।
আইসিসি অবশ্য সতর্ক করেছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে প্রাক্তন আইসিসি চেয়ারম্যান এহসান মানিও বলেন, সরকারের নির্দেশ মানলে কোনও দেশের বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া যায় না। ভারতও তো সরকারের সিদ্ধান্তেই পাকিস্তানে খেলেনি।
এই ম্যাচ ঘিরে আর্থিক ক্ষতির অঙ্কও বিপুল। জানা যাচ্ছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থার প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিজ্ঞাপন ক্ষতি হতে পারে। কারণ বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচই সবচেয়ে বেশি দর্শক টানে।











