ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল (Piyush Goyal)। মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুলকে সরাসরি নিশানা করেন তিনি। গয়ালের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে দ্বিচারিতা দেখাচ্ছেন।
পীযূষ গয়াল (Piyush Goyal) বলেন, কিছুদিন আগেও বিরোধী নেতারাই প্রশ্ন তুলছিলেন কেন ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হতে দেরি হচ্ছে। আর এখন সেই চুক্তি সম্পন্ন হতেই তারাই আবার সমালোচনায় মুখর। তাঁর কথায়, রাহুল গান্ধীর এই অবস্থান অত্যন্ত হতাশাজনক। গয়ালের অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা উন্নয়ন ও জনকল্যাণের বিরোধী মানসিকতা নিয়ে রাজনীতি করছেন।
মন্ত্রী (Piyush Goyal) আরও বলেন, রাহুল গান্ধীর মতো নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা প্রচার করে দেশকে ভুল পথে চালিত করতে চাইছেন। তবে তাতে কোনও লাভ হবে না। দেশ এগিয়ে চলেছে। ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম অর্থনীতিতে পরিণত করার বিষয়ে তাঁদের কোনও আগ্রহ নেই বলেই দাবি করেন গয়াল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী বারবার ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার চেষ্টা করেন।
পীযূষ গয়ালের দাবি, ইউপিএ জমানায় যেমন ভারত ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’-এর তালিকায় ঢুকে পড়েছিল, রাহুল গান্ধী সুযোগ পেলে আবার দেশকে সেই অবস্থায় ঠেলে দেবেন। তাঁর অভিযোগ, রাহুল দেশের সেনাবাহিনী এবং জওয়ানদের উপরও ভরসা করেন না।
প্রসঙ্গত, সোমবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত একাধিক বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো, রাশিয়ার তেল কেনা কমানো এবং শক্তি, কৃষি, প্রযুক্তি ও কয়লা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনা।
এই ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স মাধ্যমে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তকে ‘দারুণ খবর’ বলে উল্লেখ করেন এবং ভারতের মানুষের তরফে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
অন্যদিকে, এই চুক্তি নিয়ে কড়া আক্রমণ শানান রাহুল গান্ধী। সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, চাপে পড়েই প্রধানমন্ত্রী এই চুক্তিতে সই করেছেন। রাহুল বলেন, চার মাস ধরে চুক্তি আটকে ছিল। হঠাৎ করে কিছু না বদলালেও প্রধানমন্ত্রী চুক্তি সই করেছেন, যার পিছনে বড় চাপ রয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, এই চুক্তির ফলে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং তিনি আপস করেছেন।













