হোয়াটসঅ্যাপ ও তার মালিক সংস্থা মেটাকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ভারতের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। এমনকি সংবিধান মানতে না পারলে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) সূর্য কান্ত বলেন, ভারতের নাগরিকদের ডেটা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা চলবে না। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের একটি অঙ্কও শেয়ার করতে দেওয়া হবে না। আদালতের বক্তব্য, ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটাকে ডেটা প্রাইভেসি, বিহেভিওরাল অ্যানালাইসিস এবং ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপ কোনওভাবেই ব্যবহারকারীদের তথ্য মেটার সঙ্গে ভাগ করতে পারবে না।
এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২১ সালে হোয়াটসঅ্যাপের বিতর্কিত প্রাইভেসি পলিসি নিয়ে। সেই সময় কম্পিটিশন কমিশন অব ইন্ডিয়া হোয়াটসঅ্যাপকে ২১৩ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। যদিও সেই জরিমানার উপর বর্তমানে স্থগিতাদেশ দিয়েছে কোম্পানি ল ট্রাইবুনাল। পাল্টা আবেদনে কম্পিটিশন কমিশন জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের তথ্য বিজ্ঞাপনের কাজে লাগাচ্ছে, যা ক্ষমতার অপব্যবহার।
সরকারের তরফে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা হোয়াটসঅ্যাপের নীতিকে শোষণমূলক বলে মন্তব্য করেন। এর পরেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, সংবিধান না মানলে কোনও বিদেশি সংস্থা এ দেশে ব্যবসা করতে পারে না। ভারতের নাগরিকদের গোপনীয়তা কোনওভাবেই খর্ব হতে দেওয়া হবে না।
আদালত আরও প্রশ্ন তোলে, দেশের সাধারণ মানুষ এই জটিল প্রাইভেসি পলিসি আদৌ বুঝতে পারেন কি না। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, একজন দরিদ্র মহিলা, রাস্তার বিক্রেতা বা শুধুমাত্র তামিল জানা মানুষ কীভাবে এই নীতির অর্থ বুঝবেন। এমনকি আদালতের পক্ষেও অনেক সময় এই নীতিগুলি বোঝা কঠিন হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করা হয়। আদালতের মতে, এটি কার্যত ব্যক্তিগত তথ্য চুরির সামিল এবং তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
প্রধান বিচারপতি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, হোয়াটসঅ্যাপে কোনও চিকিৎসকের সঙ্গে অসুস্থতা নিয়ে কথা বলার পরই সংশ্লিষ্ট ওষুধের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। এতে স্পষ্ট হয়, ব্যবহারকারীদের আচরণ বিশ্লেষণ করে তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটার পক্ষ থেকে আইনজীবী মুকুল রোহতগি ও অখিল সিব্বল দাবি করেন, হোয়াটসঅ্যাপের সব বার্তাই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড। ফলে কোম্পানি নিজেও সেই বার্তা বা তথ্য দেখতে পায় না। তবে এই যুক্তিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়নি সুপ্রিম কোর্ট।













