এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর পাশে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির গায়ে ছিল কালো চাদর। সাংবাদিক বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা (Mamata Banerjee)।
মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেন, একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ছ’বার চিঠি পাঠিয়েছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তরফে একবারও উত্তর মেলেনি। এমনকি চিঠি পাওয়ার স্বীকৃতিও দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, এতে স্পষ্ট কমিশনের আচরণ রূঢ় ও একতরফা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই, কিন্তু অপরিকল্পিত ও তড়িঘড়ি করা প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে তৃণমূল। তাঁর প্রশ্ন, যদি এসআইআর করতেই হত, তা হলে ২০২৪ সালেই কেন শুরু করা হল না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইমপিচমেন্ট হওয়া উচিত, যদিও তাঁদের সাংসদ সংখ্যা কম থাকায় তা সম্ভব নয়। রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আইন এনে শাস্তির ব্যবস্থা হওয়া দরকার।
বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় রাজনৈতিক লড়াইয়ে পেরে না উঠেই কেন্দ্র বাংলাকে টার্গেট করছে। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় কার্যত ‘সুপার এমার্জেন্সি’ জারির চেষ্টা চলছে। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় যেখানে সংখ্যালঘু মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৩ শতাংশ, সেখানে তাঁদের নাম বাদ দিলে কী হবে।
মমতা আরও বলেন, বাংলায় একজন রোহিঙ্গাকেও চিহ্নিত করা যায়নি। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ছবি বাংলার বলে চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়লেও তৃণমূল এক ইঞ্চি জমি ছাড়বে না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনুপ্রবেশকারী থাকলে তার দায় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর। আগের সরকারগুলো তথ্য ভাগ করলেও গত ১০ বছরে তা করা হয়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে চিঠি লেখার কথাও জানান।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক প্রসঙ্গে মমতা বলেন, তাঁদের অপমান করা হয়েছে বলেই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। তাঁর কথায়, তাঁরা ফুল দিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু বদলে অপমান পেয়েছেন। তিনি বলেন, একজন খুনিও নিজের কথা বলার সুযোগ পায়, অথচ বাংলার মানুষের সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
মমতা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও নোটিস পাঠানো হয়েছে। বেআইনিভাবে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে এবং বিজেপির মদতে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন। তাই আইনি দিক নিয়ে এখন তিনি আর মন্তব্য করবেন না। তবে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দিল্লির সংবাদমাধ্যম বাংলার বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরছে না, বিরোধীদের কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যাচ্ছে।













