বালি ও কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ফের সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা, দুর্গাপুর ও আসানসোলের (Asansol) একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি। কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই দুর্গাপুর-পাণ্ডবেশ্বর ও জামুরিয়া এলাকায় অভিযান চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
তল্লাশি চলাকালীন জামুরিয়ার (Asansol) বনসাল পরিবারের বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা প্রবেশ করেন দুই ব্যাঙ্ক কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে। তাঁদের হাতে ছিল বড় বড় বস্তা। সূত্রের খবর, ওই তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। রাজেশ বনসালের বাড়ি এবং সংলগ্ন একাধিক জায়গায় এই অভিযান চালানো হয়।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বেলা পৌনে তিনটে নাগাদ বাড়ির (Asansol) ভিতর থেকে তিনটি চালের বস্তা হাতে নিয়ে বের হতে দেখা যায় ইডি আধিকারিকদের। ওই বস্তাগুলিতে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, একটি গোডাউন থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। সেই টাকাই বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, নাকি গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ফ্যাক্টরি আইনি ও বেআইনি উপায়ে কয়লা কেনে। তবে সরাসরি আর্থিক লেনদেন তারা করে না। এই লেনদেনের মধ্যস্থতার কাজ করত রাজেশ বনসালের ট্রেডিং সংস্থা। কয়লা কারবারের জন্য বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হত এবং তার বিনিময়ে ভাড়া দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। কত টাকা লেনদেন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কয়লা কাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে শুক্রবার ভোরে আসানসোলের রানিগঞ্জ ও জামুরিয়া এলাকায় একযোগে অভিযান চালায় ইডি। সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ কলকাতা থেকে তিনটি গাড়িতে করে একটি দল জামুরিয়ায় পৌঁছয়। জামুরিয়া বাজার সংলগ্ন রাজেশ বনসালের বাসভবন, তাঁর দুই ছেলে সুমিত বনসাল ও অমিত বনসালের বাড়ি, পাঞ্জাবি মোড় এলাকার একটি হার্ডওয়্যার দোকান এবং একটি গুদামেও একসঙ্গে তল্লাশি চালানো হয়।
এছাড়াও জামুরিয়া হাটতলা এলাকায় অবস্থিত বনসাল হার্ডওয়্যারেও ইডির তল্লাশি অভিযান চলছে। তদন্তকারীদের অনুমান, কয়লা পাচারের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সূত্র ধরেই এই অভিযান। একই সঙ্গে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের বাড়িতেও হানা দিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা।












