বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পওয়ারের। মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি সকালে বারামতীতে অবতরণের সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। রানওয়েতে নামার সময় বিমানটি পিছলে গিয়ে পাশের একটি জমিতে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায় বিমানে। অজিত পওয়ার-সহ বিমানে থাকা মোট পাঁচজনই অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।
এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় ‘ফাউল প্লে’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তোলেন। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর চর্চা। এই আবহেই প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন অজিত পওয়ারের কাকা তথা এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) প্রধান শরদ পওয়ার (Sharad Pawar)।
একসময় একই দলে থাকলেও কাকা-ভাইপোর সম্পর্কে পরে ফাটল ধরে। সেই বিভেদের জেরে এনসিপি ভেঙে দুটি দলে ভাগ হয়ে যায়। সম্প্রতি শোনা যাচ্ছিল, বহু মতভেদ ভুলে আবার এক হতে পারেন তাঁরা। কিন্তু তার আগেই এল এই দুঃসংবাদ।
ভাইপোর মৃত্যুর পর শরদ পওয়ার (Sharad Pawar) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ঘটনায় কোনও ষড়যন্ত্র নেই। তাঁর বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ একটি দুর্ঘটনা। তিনি বলেন, অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে মহারাষ্ট্র অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ল। একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতা চলে গেলেন, যাঁর অভাব রাজ্যের রাজনীতিতে চিরদিন অনুভূত হবে।
আবেগতাড়িত হয়ে শরদ পওয়ার (Sharad Pawar) আরও বলেন, কিছু ঘটনা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। এই শোকের মুহূর্তে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, এর পিছনে কোনও চক্রান্ত নেই, কোনও রাজনীতি নেই। এটা নিছক দুর্ঘটনা, আর এই কষ্ট মহারাষ্ট্রকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।
এর আগে সিঙ্গুরে যাওয়ার পথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকদিন আগেই সামাজিক মাধ্যমে এক রাজনৈতিক মন্তব্য সামনে এসেছিল, যার পরেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাই তিনি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
অজিত পওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে রাজ্যের রাজনীতি যেমন স্তব্ধ, তেমনই শোকাহত তাঁর পরিবার ও অনুগামীরা।













