বাংলায় কেউ কেউ অশান্তি ছড়াতে চাইছে, তাই প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের পর প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের মুখে রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার উপর বিশেষ জোর দেন তিনি (Mamata Banerjee)।
মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, ভোটের স্বার্থে কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃত ভাবে অশান্তি ছড়াতে চায়। কিন্তু বাংলা শান্তি চায়। তাই সবাইকে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, মানুষের যেন কোনও ভয় বা অশান্তি না থাকে, পরিবারগুলো যেন শান্তিতে থাকতে পারে, সেটাই তাঁদের দায়িত্ব।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, রাজ্যে যদি ৩০ শতাংশ কোনও একটি কমিউনিটির মানুষ হয় এবং তাঁরা অশান্তি শুরু করে, তাহলে প্রতিদিন রাস্তা অবরোধ হবে, বিক্ষোভ চলবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যে ২৬ শতাংশ তফশিলি জাতি এবং প্রায় ৬ শতাংশ আদিবাসী মানুষ রয়েছেন। আদিবাসীদের উপর সামান্য কিছু ঘটলেই অনেক সময় ট্রেন অবরোধের মতো ঘটনা ঘটে। কিন্তু তিনি এমন পরিস্থিতি চান না। তাঁর কথায়, তিনি চান সবাই নিজের মতো করে শান্তিতে থাকুক, কেউ কারও বিষয়ে অযথা নাক না গলাক।
এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী আবার বলেন, ভোটের জন্য কেউ কেউ অশান্তি তৈরি করতে চায়, কিন্তু তাঁকে তো বছরভর রাজ্য চালাতে হয়। তাই সবাইকে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী যদিও স্পষ্ট করে বলেননি, তাঁর কথায় উল্লেখ করা ৩০ শতাংশ মানুষ কারা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইঙ্গিতটা রাজ্যের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর দিকেই। বাংলায় মোট ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৪৬টিতে সংখ্যালঘু ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ১৪৬টির মধ্যে বর্তমানে তৃণমূলের দখলে রয়েছে ১৩১টি, বিজেপির ১৪টি এবং আইএসএফের একটি আসন। ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে এমন বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যা ৭৪টি এবং ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে এমন কেন্দ্র রয়েছে ৭২টি।
এদিকে রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও মুসলিম ভোট নিয়ে তাঁর বক্তব্য ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কখনও বলেননি যে মুসলিম ভোট তিনি চান না, বরং বাস্তবে তিনি সংখ্যালঘুদের ভোট পান না, সেটাই বলেছেন। তাঁর দাবি, খুনি বা দুষ্কৃতীদের কোনও ধর্ম হয় না এবং তৃণমূল আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধেই তিনি কথা বলেছেন।
ভোটের আগে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ঘিরে এই রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, যদি পুলিশ-প্রশাসন শাসকদলকে দেখলে টেবিলের তলায় লুকিয়ে পড়ে, তাহলে অশান্তি রুখবে কে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি যদি ধর্ম ও জাতের রাজনীতি ছড়ায় এবং তাতে তৃণমূলের কেউ যুক্ত থাকে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে যাবে।












