মালদহ থেকে যাত্রা শুরু করার এক সপ্তাহও হয়নি। তার মধ্যেই রাজনীতির রঙ লেগে গেল বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে। শুরু হয়ে গেল বিতর্ক। ভোটের আগে ফের বাঙালি আবেগে শান দিতে ময়দানে নামল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রশ্ন একটাই—‘মাছে-ভাতে বাঙালিকে’ কেন নিরামিষ খাবার খেতে হবে (Vande Bharat Express)?
আসলে এই নতুন বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Express) ট্রেনে যাত্রীদের জন্য যে খাবারের মেনু প্রকাশ করেছে রেল, সেখানে রয়েছে শুধুই নিরামিষ পদ। আর সেই মেনু ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছে, “মাছ খাব না আমরা? খাব না আমরা মাছ?” এই বাক্যেই স্পষ্ট, নিরামিষ খাবারকে হাতিয়ার করেই বাঙালি আবেগ উসকে দিতে চাইছে শাসকদল।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া থেকে কামাক্ষ্যা যাওয়ার পথে এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে (Vande Bharat Express) যাত্রীদের দেওয়া হবে বাসন্তী পোলাও, ছোলার ডাল, মুগ ডাল, ঝুরি আলু ভাজা, ছানা বা ধোকার ডালনা, লাবড়া, সন্দেশ ও রসগোল্লা। অন্যদিকে অসম অংশে পরিবেশিত হবে জোহা চালের ভাত, মাটি মাহর ডাল, মুসুর ডাল, বিভিন্ন সবজি, ভাজাভুজি ও নারকেল বরফি।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মাছ-ভাত যাঁদের খাদ্যসংস্কৃতির অঙ্গ, সেই বাংলা ও অসমের মধ্যে দিয়ে চলা ট্রেনে কেন শুধুই নিরামিষ খাবার (Vande Bharat Express)? এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। শাসকদলের অভিযোগ, বিজেপি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে অভ্যস্ত। কে কী খাবে, কী পরবে, কাকে ভালোবাসবে—সবই তারা ঠিক করতে চায়। পোস্টে দিল্লিতে মাছ খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে। এমনকি ব্রিগেডে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনাও উল্লেখ করেছে তৃণমূল।
যদিও রেল সূত্রে মনে করানো হচ্ছে, এর আগে হাওড়া-পুরী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসেও প্রথম কয়েক দিন শুধুই নিরামিষ খাবার দেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে আমিষ খাবার যুক্ত করা হয়। তাই এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনেও ভবিষ্যতে মেনু বদলায় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে যাত্রীরা।








