জ্ঞানবাপী বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে শিরোনামে উঠে এল মধ্যপ্রদেশের ভোজশালা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) নির্দেশ দিয়েছে, শুক্রবার বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরে হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায়ই তাঁদের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করতে পারবেন। ফলে একই দিনে ভোজশালায় সরস্বতী পুজো এবং জুম্মার নমাজ—দুটিই হবে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এর জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে প্রশাসন।
সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়েছে, দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ জুম্মার নমাজ পড়বেন। নমাজ শেষ হলে তাঁরা বিতর্কিত এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন। একই ভাবে সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠান শেষ হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও ওই স্থান থেকে সরে যাবেন। ২৩ জানুয়ারি একই দিনে বসন্ত পঞ্চমী এবং জুম্মার নমাজ পড়ায় এই বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের ভোজশালায় রয়েছে প্রায় হাজার বছরের পুরনো একটি বিতর্কিত সৌধ। মুসলিমদের দাবি, এটি একটি প্রাচীন মসজিদ। অন্যদিকে হিন্দুদের দাবি, রাজা ভোজের তৈরি এই সৌধ আসলে সরস্বতী মন্দির। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহে নির্দিষ্ট দু’দিন এখানে দুই ধর্মের মানুষ তাঁদের ধর্মীয় আচার পালন করেন। বাকি দিনগুলিতে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও পুজো বা নমাজ করার অনুমতি নেই (Supreme Court)।
এই নিয়মে পরিবর্তনের দাবিতে ২০২২ সালে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। হিন্দু পক্ষের আইনজীবী হরিশংকর জৈন আদালতে দাবি করেন, ২০০৩ সালের একটি নোটিসের মাধ্যমে মুসলিমদের এখানে নমাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর দাবি অনুযায়ী, ভোজশালা আসলে একটি হিন্দু মন্দির এবং এখানে শুধুমাত্র হিন্দুদের উপাসনার অনুমতি থাকা উচিত।
বিতর্ক চরমে ওঠায় আদালত ভোজশালায় ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বা এএসআই-কে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার নির্দেশ দেয়। সম্প্রতি সেই সমীক্ষার রিপোর্ট জমা পড়েছে। রিপোর্টে একাধিক ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশাপাশি ৯৪টি মূর্তির সন্ধান পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এর পরই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির তরফে দাবি করা হয়েছে, ভোজশালার জমির নীচে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি ও মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে।











