বেনারসের ঘাটে বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের (Hiran Chatterjee) দ্বিতীয় বিয়ের ছবি ঘিরে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অভিনেত্রী ও মডেল হৃতিকা গিরির সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন হিরণ। যদিও এই বিয়ে নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। তবে এই ঘটনার পর প্রথমবার মুখ খুলেছেন হিরণের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়।
অনিন্দিতা জানান, সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট দেখেই তিনি হিরণের (Hiran Chatterjee) দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানতে পারেন। তাঁর কথায়, “পোস্ট দেখেই আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমাদের তো কোনও বিচ্ছেদ হয়নি। হিন্দু সমাজে এভাবে বিয়ে হয় না। আমরা তো মুসলিম নই।” অনিন্দিতা স্পষ্টভাবে জানান, তাঁদের মধ্যে এখনও ডিভোর্স হয়নি।
২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর হিরণ (Hiran Chatterjee) ও অনিন্দিতার বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে, যার বয়স বর্তমানে ১৯ বছর। অনিন্দিতার দাবি, প্রায় ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি এবং তাঁর মেয়ে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। তবে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এতদিন মুখ খোলেননি তিনি।
অনিন্দিতা বলেন, “আমার মেয়ের কেরিয়ার নষ্ট হবে ভেবে এতদিন কিছু বলিনি। কিন্তু এখন আর বলার ভাষা নেই। সবাই তো সবকিছু দেখতেই পাচ্ছে। কতটা অভদ্র মানুষ হলে কেউ নিজের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে, অথচ কোনওদিন নিজের মেয়ের একটা ছবিও পোস্ট করে না!” তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনাই প্রমাণ করে হিরণ কী ধরনের মানুষ।
হিন্দু ধর্মে এই ধরনের বিয়ের কোনও মূল্য নেই বলেও দাবি করেন অনিন্দিতা। তিনি বলেন, “এই বিয়ের কোনও সামাজিক বা ধর্মীয় স্বীকৃতি নেই। এটা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হল, ওই হৃতিকা নামে মেয়েটা আমাদের মেয়ের থেকেও বয়সে দু’বছরের বড়। এরপর আর কী বলার থাকে!”
অনিন্দিতার আরও দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই হৃতিকার নাম শুনছিলেন। শোনা যেত, ওই তরুণী নাকি হিরণকে ব্ল্যাকমেল করতেন। তবে ভাইরাল হওয়া বিয়ের ছবি দেখে তাঁর মনে হচ্ছে, ব্ল্যাকমেলের তত্ত্ব আদৌ ঠিক নয়। এই ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও।









