দুই সাংসদের পর এবার এসআইআর শুনানির নোটিস পেলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ (Kajal Sheikh)। আগামী ২৮ জানুয়ারি তাঁকে নানুর বিডিও অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। নোটিস হাতে পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কাজল শেখ (Kajal Sheikh)। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি।
বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কোর কমিটির সদস্য ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখ (Kajal Sheikh) স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি কোনওভাবেই রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি নন। তাঁর দাবি, “আমি বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলি বলেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। আমি রোহিঙ্গা নই, বাংলাদেশি নই। চোদ্দগুষ্টির নথি নিয়ে শুনানিতে যাব। যা কাগজ চাইবে, সবই দেব।”
বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে কাজল শেখ (Kajal Sheikh) আরও বলেন, তিনি কখনও বিজেপির কাছে মাথা নত করবেন না। ইডি ও সিবিআই দিয়ে তাঁকে কোনও মামলায় ফাঁসানো যায়নি বলেই এখন এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
বর্তমানে রাজ্যজুড়ে এসআইআর শুনানি চলছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকি এসআইআর আতঙ্কে একাধিক মৃত্যুর অভিযোগও উঠেছে। এই শুনানিতে আগে ডাকা হয়েছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও একাধিক নেতাকেও হাজিরা দিতে হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতির নাম।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজল শেখ নানুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। আগের ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে বর্তমান এনুমারেশন ফর্মে দেওয়া তথ্যের কিছু অমিল রয়েছে বলেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কারণ ২০২৩ সালে নানুর থানার জেলা পরিষদের আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন কাজল শেখ। সেই সময় নির্বাচন কমিশনই তাঁকে নির্বাচিত হওয়ার শংসাপত্র দিয়েছিল।
এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের একের পর এক নোটিস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শাসক দলের নেতারা।













