Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • বিদেশ
  • প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছর! গণভোটের আগে বড় ঘোষণা ইউনুসের
বিদেশ

প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছর! গণভোটের আগে বড় ঘোষণা ইউনুসের

muhammas yunus
Email :7

বাংলাদেশের (Bangladesh)অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস সোমবার দেশবাসীর কাছে আবেদন জানালেন, আসন্ন গণভোটে তাঁর সরকারের সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য। এই সংস্কার প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ বেঁধে দেওয়া। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি টানা বা মিলিয়ে ১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

এই উদ্যোগের পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস (Bangladesh)। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ চলেছে। একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকা নেতাদের অন্যতম হয়ে ওঠেন। সেই সময়েই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বিপুল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো বদলের প্রশ্নেও ভোট দিতে চলেছেন দেশের মানুষ। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এই ভোটকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন মুহাম্মদ ইউনুস (Bangladesh)। সেখানে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, এই সংস্কার প্রস্তাব দীর্ঘদিনের ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ থেকে দেশকে মুক্ত করবে। ইউনুস বলেন, “আপনাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। ‘হ্যাঁ’ বললেই নতুন বাংলাদেশের দরজা খুলে যাবে।” তিনি আরও বলেন, এই সংস্কার কার্যকর হলে দেশ বৈষম্য, শোষণ ও অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবে।

সংস্কার প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ। ইউনুস স্পষ্ট জানান, প্রস্তাব পাশ হলে কোনও ব্যক্তি সর্বাধিক ১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি তিনি জানান, বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হবে এবং সংসদে দুই কক্ষের ব্যবস্থা চালু করা হবে। একটি উচ্চকক্ষ তৈরি করে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে।

ইউনুস আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি ইচ্ছামতো দোষী সাব্যস্ত অপরাধীদের ক্ষমা করতে পারবেন না। সব ক্ষমতা আর প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে না, যদি মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়।

এই সংস্কার প্রস্তাবগুলি রয়েছে ৮৪ দফার একটি নথিতে, যার নাম ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার–২০২৫’। গত ১৭ অক্টোবর এই চার্টার প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেই এই নথি তৈরি হয়েছে। এই কমিশনের সভাপতিও মুহাম্মদ ইউনুস নিজেই। চার্টার প্রকাশের দিন ইউনুস বলেছিলেন, বাংলাদেশ সভ্যতার পথে পা রাখল এবং এটি একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম।

ইউনুসের এই ভাষণের মধ্যেই সরকারি স্তরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন জোগাড়ের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এতে আপত্তি তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের প্রশ্ন, একটি অন্তর্বর্তী সরকার কি এ ভাবে প্রচারে নামতে পারে? এই সমালোচনার জবাবে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি তাঁদের ‘পলাতক শক্তি’ বলে কটাক্ষ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের নিশানায় শেখ হাসিনার সমর্থক ও বর্তমানে ভেঙে যাওয়া আওয়ামি লিগ।

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি এবং জামাত-ই-ইসলামি সহ একাধিক রাজনৈতিক দল এই চার্টারে সই করেছে। তবে কিছু প্রস্তাব নিয়ে তারা আপত্তিও জানিয়েছে। চার্টারে সই করলেও এই দলগুলির কেউই এখনও প্রকাশ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে জোরালো প্রচারে নামেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts