সমাজ বদলাচ্ছে। সেই সঙ্গে বদলাচ্ছে সম্পর্কের ধরনও। আধুনিক সমাজে অনেক তরুণ-তরুণী এখন লিভ-ইন সম্পর্কে থাকছেন। এই বাস্তবতার মধ্যেই লিভ-ইন সম্পর্ককে ভারতীয় সমাজে ‘সাংস্কৃতিক ধাক্কা’ বলে মন্তব্য করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট (Madras High Court)। একই সঙ্গে আদালত জানাল, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিচারপতির মতে, লিভ-ইন সম্পর্ককে গন্ধর্ব বিবাহ বা প্রেমের বিয়ের মতো স্বীকৃতি দেওয়া উচিত (Madras High Court)।
সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে মাদ্রাজ হাইকোর্টের (Madras High Court) বিচারপতি এস শ্রীমাথি বলেন, ভারতীয় সমাজে লিভ-ইন সম্পর্ক এখনও অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা এক ধরনের সাংস্কৃতিক ধাক্কা। তবে বাস্তবে এই ধরনের সম্পর্ক ক্রমশ বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অনেক মহিলা নিজেদের আধুনিক ভাবনায় লিভ-ইন সম্পর্কে জড়ালেও পরে বুঝতে পারেন, এই সম্পর্কে সেই নিরাপত্তা নেই, যা বৈধ বিবাহে থাকে। এই কঠিন বাস্তবতার প্রভাব শেষ পর্যন্ত তাঁদের উপরই পড়ে।
আদালত (Madras High Court) আরও জানায়, আধুনিক সম্পর্কের এই প্রবণতার মধ্যে মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। সেই কারণেই লিভ-ইন সম্পর্ককে গন্ধর্ব বিবাহের মতো স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেন বিচারপতি। এমন হলে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলারা স্ত্রীর মর্যাদা এবং আইনি সুরক্ষা পেতে পারেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে, গন্ধর্ব বিবাহে বর ও কনের পারস্পরিক সম্মতি ও প্রেমই মুখ্য। সেখানে কোনও সামাজিক আচার, ধর্মীয় রীতি বা অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
এই মন্তব্য উঠে আসে এক আগাম জামিন মামলার শুনানিতে। ওই ব্যক্তি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি এক মহিলার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। পরে পরিবার বিয়েতে রাজি না হওয়ায় দু’জনে অন্য জায়গায় গিয়ে ভাড়া বাড়িতে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।
এরপর মহিলার বাবা নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ দু’জনকেই থানায় নিয়ে আসে। সেখানে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি মহিলাকে বিয়ে করতে চান। কিন্তু তাঁর পরিবার এই বিয়ের বিরোধিতা করে এবং বিয়ে হলে দু’জনকে খুন করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
আদালতে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, অনেক আগেই ওই মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেছে এবং তাঁকে বিয়ের কোনও পরিকল্পনাও তাঁর ছিল না। নিজের কোনও স্থায়ী আয় ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি এবং আগাম জামিনের আবেদন জানান। এই মামলার শুনানিতেই মাদ্রাজ হাইকোর্ট লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলাদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়।











