গায়ে হলুদের রঙ তখনও শুকোয়নি। তার মধ্যেই নাগরিকত্বের শুনানিতে হাজির হতে হল বরকে। বিয়ের শেরওয়ানি পরেই শুনানির লাইনে দাঁড়ানো, কখনও আবার ফাঁকা চেয়ারে বসে নাম ডাকার অপেক্ষা (SIR Hearing)। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান শুনানিতে আসা সাধারণ মানুষজন। কেউ কেউ ফিসফিস করে বলতেও শোনা যায়, এমন দিনও দেখতে হবে! চরম অস্বস্তিতে পড়েন বর নিজেও। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নানুর ব্লকে (SIR Hearing)।
এসআইআর শুনানিতে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ নতুন নয়। অসুস্থ, বৃদ্ধ কিংবা হাঁটতে না-পারা মানুষদেরও হাজির হতে হচ্ছে শুনানিতে। তবে বিয়ের দিন বরের পোশাক পরে এসআইআরের শুনানিতে হাজির হওয়ার ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। সোমবার শেরওয়ানি গায়ে, ফুলের মালা নয়—হাতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে নানুর ব্লক অফিসে হাজির হন বর কবির আকবর রানা ওরফে রানা শেখ। বিয়ের মণ্ডপে যাওয়ার আগে তাঁর গন্তব্য ছিল এসআইআর শুনানি (SIR Hearing)।
সোমবার নানুর ব্লকের খুজুটিপাড়ায় বিয়ের আনন্দে মুখর ছিল গোটা বাড়ি (SIR Hearing)। সকাল থেকেই চলছিল গায়ে হলুদ, গান-বাজনা, মেহেদি আর সাজগোজ। কনের বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল পুরোদমে। ঠিক সেই দিনেই এসআইআর শুনানির নোটিসে হাজিরা দিতে হয় রানাকে। ফলে চরম বিপাকে পড়ে যান বর ও তাঁর পরিবার। উপায় না দেখে বিয়ের সাজেই ব্লক অফিসে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বরের এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ঘিরে ব্লক অফিস চত্বরে কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি সামলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়ে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন রানা শেখ। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা তাঁকে ভিতরে ঢুকে শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতিও দেন।
শুনানি শেষে রানা বলেন, বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে তাঁদের বাড়িতে শুনানির নোটিস আসে। বিয়ের দিনেই শুনানি পড়ায় তাঁরা চরম সমস্যায় পড়েছিলেন। কিন্তু নোটিস পাওয়ার পর হাজির না হয়ে উপায় ছিল না। আনন্দের দিনে এমন পরিস্থিতিকে চরম বিড়ম্বনা বলেই মনে করছেন পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজনেরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’মাস আগে লাভপুরের কামোদপুর গ্রামে রানার বিয়ে ঠিক হয়। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও বিয়ের তিন দিন আগে এসআইআর শুনানির নোটিস এসে পৌঁছয়। পরিবারের অভিযোগ, নোটিসে রানার বাবা আলঙ্গীর শেখের সন্তানের সংখ্যা ভুলভাবে ছয় জন লেখা হয়েছে। অথচ বাস্তবে তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। শুনানিতে নিজেই সেই ভুলের কথা স্পষ্ট করেন বর। একদিকে বিয়ের আনন্দ, অন্যদিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ—এই দুইয়ের মাঝখানেই পড়তে হল রানাকে।













