উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় এক ২৭ বছরের যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (Noida Accident)। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নয়ডা প্রশাসনের সিইও এম লোকেশকে বরখাস্ত করেছেন। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি বা সিট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে (Noida Accident)।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিটের নেতৃত্বে থাকবেন মিরাটের ডিভিশনাল কমিশনার। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন মিরাট জোনের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল এবং পূর্ত দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (Noida Accident)।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে। ঘন কুয়াশার কারণে নয়ডায় দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় শূন্য। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি বিশাল জলভরা গর্তে পড়ে যান যুবরাজ মেহতা নামে ওই যুবক। গুরুগ্রামের একটি ডেটা সায়েন্স সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তিনি। রাতে নিজের এসইউভি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন যুবরাজ। নয়ডার সেক্টর ১৫০ এলাকায় একটি বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য খনন করা প্রায় ৭০ ফুট গভীর গর্তে বাঁক ঘোরার সময় গাড়িটি সোজা পড়ে যায় (Noida Accident)।
কাদা ও জলে ভর্তি গর্তের মাঝামাঝি অংশে গিয়ে আটকে যায় গাড়িটি। নিজের প্রাণ বাঁচাতে যুবরাজ দ্রুত চালকের আসন থেকে বেরিয়ে গাড়ির ছাদের উপর উঠে দাঁড়ান। কিন্তু তিনি সাঁতার জানতেন না। সেই অবস্থাতেই ফোন করেন বাবাকে। আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, তিনি গভীর জলভরা গর্তে পড়ে গিয়েছেন এবং ডুবে যাচ্ছেন। বাবাকে অনুরোধ করেন দ্রুত এসে তাঁকে বাঁচাতে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়িটি আর ওজন ধরে রাখতে পারেনি। চোখের সামনে ডুবে যায় গাড়ি। প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান যুবরাজের বাবা রাজ মেহতা এবং পুলিশের একটি উদ্ধারকারী দল। তার আগেই এক পথচারী তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু জলভরা গর্তে নামতে সাহস পাননি।
যুবরাজ নিজের মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে উদ্ধারকারীদের নিজের অবস্থান জানানোর চেষ্টা করেন। সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও ঘন কুয়াশার কারণে উদ্ধারকারীরা তাঁকে দেখতে পাননি। পুলিশ ক্রেন নামিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও কেউ গভীর গর্তে নামেননি বলে অভিযোগ। পরে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কাছেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না।
ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসে যুবরাজের গলার স্বর। কার্যত রাস্তায় দাঁড়িয়েই ছেলের মৃত্যুর মুহূর্ত দেখেন বাবা। অনেক পরে কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে সব শেষ। রাতের অন্ধকারে দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে আলো ফোটার পর গভীর গর্ত থেকে যুবরাজ মেহতার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় আরও অভিযোগ উঠেছে, ওই গভীর গর্তের পাশে কোনও রেলিং, ব্যারিকেড বা বিপদসংকেত ছিল না। সেই কারণেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।








