যুবভারতীকাণ্ডে গ্রেফতারির ৩৮ দিনের মাথায় বড় স্বস্তি পেলেন শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta)। বুধবার বিধাননগর মহকুমা আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। পাঁচ হাজার টাকার দুটি অ্যাসিওরেন্স বন্ডে জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে এই অন্তর্বর্তী জামিনের সঙ্গে একাধিক কঠোর শর্তও বেঁধে দিয়েছে আদালত।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শতদ্রুকে (Satadru Dutta) তাঁর সমস্ত নথি জমা রাখতে হবে। অন্তর্বর্তী জামিনে থাকাকালীন তিনি বিধাননগর পুলিশের আওতার বাইরে যেতে পারবেন না। পাশাপাশি, সপ্তাহে এক দিন করে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে হবে এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
গত ১৩ ডিসেম্বর বিশ্ব ফুটবলের তারকা লিওনেল মেসি কলকাতায় এসেছিলেন। যুবভারতী স্টেডিয়ামে তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে কয়েক মাস ধরেই প্রবল উত্তেজনা ছিল ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে (Satadru Dutta)। মেসিকে একঝলক দেখার আশায় বহু মানুষ হাজার হাজার টাকার টিকিট কাটেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দর্শকরা স্টেডিয়ামে মেসিকে দেখতে পাননি। মেসি স্টেডিয়াম ছেড়ে যাওয়ার পরেই যুবভারতীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার দিনই শহর ছাড়ার আগেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করে বিধাননগর পুলিশ। লিওনেল মেসির ভারত সফরের প্রধান আয়োজক হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ ওঠে। তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়। তদন্তকারীরা শতদ্রুর রিষড়ার বাড়ি থেকে মেসির অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেন। সিট সূত্রে জানা যায়, শতদ্রুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনার দিন যুবভারতীতে যে টিকিট বিক্রি হয়েছিল, তার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আদালতে শতদ্রু দত্ত আগেই দাবি করেছিলেন, যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার জন্য তিনি কোনওভাবেই দায়ী নন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেই পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা কেন যায়নি, সেই প্রশ্নে তিনি রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন। পাস বিলি নিয়ে রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপ ছিল বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।
এর আগে একাধিকবার শতদ্রুর জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারির ৩৮ দিনের মাথায় আদালতের কাছ থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন তিনি। তবে মামলার তদন্ত এখনও চলছেই।








