Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • Important
  • মোদীর মুখে তৃণমূল সাংসদের বাবার নাম! কে এই শিবেন্দু শেখর রায়, যাঁর জন্য মালদহ আজ ভারতের অংশ?
জেলা

মোদীর মুখে তৃণমূল সাংসদের বাবার নাম! কে এই শিবেন্দু শেখর রায়, যাঁর জন্য মালদহ আজ ভারতের অংশ?

pm modi aaaaaaa
Email :3

“সবার প্রথমে বাংলার মহান নেতা শিবেন্দু শেখর রায়কে শ্রদ্ধাসহ প্রণাম জানাই”— শাসকদলকে আক্রমণ শুরু করার আগেই করজোড়ে এই কথাই বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)। তিনি বলেন, শিবেন্দু শেখর রায়ের চেষ্টাতেই আজ মালদহ ভারতের অঙ্গ হয়ে রয়েছে। সেই বক্তব্যের পর ধাপে ধাপে রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি যে বাংলার উন্নয়নে কতটা আন্তরিক, তা বোঝাতেই ছিল তাঁর বক্তব্য। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, ভাষণের শুরুতেই যাঁর নাম করলেন প্রধানমন্ত্রী, কে এই শিবেন্দু শেখর রায় (PM Modi)?

শিবেন্দু শেখর রায় ছিলেন মালদহ জেলার একজন বিশিষ্ট নেতা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনি পেশায় আইনজীবী ছিলেন এবং হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দেশভাগের সময় মালদহ জেলা যাতে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়ে না যায়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। ইতিহাস বলছে, শিবেন্দু শেখর রায়ের নেতৃত্বেই মালদহের জমিদাররা একজোট হয়েছিলেন। ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেছিলেন তিনি। মালদহকে ভারতের অংশ করে রাখার দাবিতে তিনি আন্দোলনে নেমেছিলেন এবং স্মারকলিপিও জমা দিয়েছিলেন।

দেশভাগের সময় মালদহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তখন শিবেন্দু শেখর রায়ের উদ্যোগেই আন্দোলন জোরদার হয়। পরে অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে ঘোষণা করা হয় যে মালদহ ভারতের অংশ হিসেবেই থাকবে। সেই লড়াইয়ের অন্যতম মুখ ছিলেন শিবেন্দু শেখর রায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মালদহবাসীর স্মৃতি থেকে প্রায় হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে নতুন করে সামনে আসে তাঁর নাম।

প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) মুখে শিবেন্দু শেখর রায়ের নাম শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তাঁর পরিবার। শিবেন্দু শেখর রায়ের ছোট ছেলে প্রয়াত শরদিন্দু শেখর রায়ের স্ত্রী স্বপ্না রায় বলেন, ১৯৮০ সালে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তিনি শিবেন্দু শেখর রায়ের সেবা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর কথায়, মানুষ হয়তো তাঁকে ভুলে গিয়েছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মনে রেখেছেন— এটাই পরিবারের কাছে গর্বের।

শিবেন্দু শেখর রায়ের নাতি স্বর্ণেন্দু শেখর রায় বলেন, দেশভাগের সময় তাঁর দাদুই প্রথম স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই মালদহকে ভারতের অংশ করে রাখার লড়াই শুরু হয়। তাঁর দাবি, দাদুর সেই ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা আজ নতুন করে দেশের মানুষ জানতে পারছেন।

শিবেন্দু শেখর রায়ের পাঁচ সন্তান ছিল। তাঁদের মধ্যে সক্রিয় রাজনীতিতে রয়েছেন একমাত্র সুখেন্দু শেখর রায়। তিনি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ। সুখেন্দু শেখর রায় তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন কংগ্রেসের হাত ধরে। ১৯৬৮ সাল থেকে রাজনীতিতে যুক্ত তিনি। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সুখেন্দু শেখর। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগ দিয়ে তৃণমূলে আসেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে তাই রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই ইতিহাসের পাতায় চাপা পড়ে যাওয়া এক নাম আবার নতুন করে উঠে এসেছে জনচর্চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts