একসঙ্গে কতগুলো বাদুড় দেখেছেন—এই প্রশ্নের উত্তর বাঁকুড়ার মাজডিহা গ্রামের মানুষ দিতে পারবেন না। কারণ, এখানে বাদুড় গোনা সম্ভব নয়। হাজার হাজার বাদুড়ের বাস এই গ্রামে। বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের মাজডিহা গ্রামকে বাদুড়ের স্বর্গরাজ্য বললেও অত্যুক্তি হয় না। গ্রামের প্রায় সব গাছেই দিনের পর দিন ঝুলে থাকে বাদুড়ের দল (Nipah Virus)।
কবে থেকে মানুষ আর বাদুড় একসঙ্গে থাকতে শুরু করেছে, তা কেউ জানে না। তবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করেন, বাদুড়েরা তাঁদের পরিবারেরই অংশ। তাই শত শত বছর ধরে চোরা শিকারিদের হাত থেকে বাদুড়দের রক্ষা করে আসছেন গ্রামবাসীরা। নিজেরা কখনও বাদুড় মারেন না। বাইরের কেউ এলেও বাধা দেন। এই কারণেই বছরের পর বছর ধরে নিরাপদ আশ্রয়ে বাদুড়ের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন গ্রামে কয়েক হাজার বাদুড় বসবাস করে (Nipah Virus)।
সম্প্রতি নিপা ভাইরাস সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বাদুড়ের দেহরস থেকে দূরে থাকার কথা বলা হচ্ছে। সেই খবর মাজডিহা গ্রামের মানুষও শুনেছেন। তবু নিপা আতঙ্কে শত বছরের সম্পর্ক ভাঙতে রাজি নন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা সোমা ঘোষ বলেন, নিপা ভাইরাসের কথা শুনেছেন, কিন্তু তাঁদের এলাকায় কখনও এমন কিছু হয়নি। বাদুড় খাওয়া ফলের অংশ ফেলে দিয়ে তাঁরা খেয়েছেন, তাতে কোনও অসুবিধা হয়নি বলেই দাবি তাঁর। করুণা ঘোষ ও প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও একই কথা। তাঁদের মতে, বাদুড়ের জন্য কখনও ক্ষতি হয়নি বলেই এত বছর ধরে তারা গ্রামে রয়েছে (Nipah Virus)।
স্বাস্থ্য দফতর অবশ্য আতঙ্ক নয়, সতর্কতার পথেই হাঁটতে বলছে। বাঁকুড়া জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সজল বিশ্বাস জানান, এখনও পর্যন্ত জেলায় নিপা আক্রান্তের কোনও খবর নেই। তবে যেহেতু এই ভাইরাস বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়াতে পারে, তাই সাবধান থাকা জরুরি। পাখি বা বাদুড়ে খাওয়া ফল খাওয়া উচিত নয়। কাঁচা খেজুরের রসও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।









