প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সিঙ্গুরের (Singur) সভা ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। সভার আগে বিজেপি নেতাকর্মীরা সিঙ্গুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। বিজেপির দাবি, যে জমিতে এক সময় টাটার কারখানা হওয়ার কথা ছিল, সেই জমি দিয়েছিলেন কৃষকরাই (Singur)। এখন সেই কৃষকরাই শিল্প চাইছেন।
বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ওই জমিতেই (Singur) আবার শিল্প হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে টাটাকে সিঙ্গুরে ফেরানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর কথায়, বিজেপি জানে কীভাবে শিল্প আনতে হয় এবং সারা দেশেই তার উদাহরণ রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সিঙ্গুর আন্দোলন ছিল বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পথে একটি বড় ইস্যু। বাম আমলে টাটা ন্যানোর কারখানার জন্য কৃষকদের থেকে জমি নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, জোর করে কৃষকদের জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই আন্দোলনের জেরে টাটা সিঙ্গুর ছেড়ে চলে যায়।
বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তখন তৃণমূলেই ছিলেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এখন সিঙ্গুর ইস্যুতে তাঁর অবস্থান বদলেছে।
এই আবহেই সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সুকান্ত মজুমদার বলেন, উত্তর প্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে যেভাবে শিল্প করিডর তৈরি হয়েছে, বাংলাতেও তেমনটাই করা হবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, তাঁর শাসনে শিল্পের ক্ষতি হয়েছে।
পালটা সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, ভোটের আগে বড় বড় প্রতিশ্রুতি নতুন কিছু নয়। আগেও অনেক কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে তার ফল পাওয়া যায়নি। তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, গুজরাটে টাটার যে কারখানা হয়েছিল, সেটিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, সিঙ্গুর আন্দোলন শুধু তৃণমূলের নয়, সব রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের আন্দোলন ছিল। সেই সময় বিজেপির নেতারাও আন্দোলনে শামিল ছিলেন।











