নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) সংক্রমণ নিয়ে গভীর উদ্বেগে রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্রও। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। কেন্দ্রের তরফে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল বাংলায় পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হল, নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, নেই কোনও কার্যকর ওষুধও। ফলে এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে আগেভাগে উপসর্গ চিনে রাখা এবং সতর্ক থাকাই একমাত্র উপায় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী জানিয়েছেন, শরীরে নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) ঢোকার চার দিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। প্রথমে জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা বা বমি বমি ভাব দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি দ্রুত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট এমনকি মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ না করার মতো উপসর্গও দেখা যায়।
চিকিৎসকদের মতে, যেহেতু এই রোগের (Nipah Virus) কোনও চিকিৎসা নেই, তাই প্রতিরোধই একমাত্র ভরসা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেকেই নিপার নামই শোনেননি। তাই গ্রামে গ্রামে টিম পাঠিয়ে মানুষকে সতর্ক করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মূলত বাদুড় থেকেই নিপা ভাইরাস ছড়ায়। তবে বাংলায় যে দু’জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের শরীরে ঠিক কীভাবে এই ভাইরাস প্রবেশ করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ওই দুই স্বাস্থ্যকর্মীর একজনের বাড়ি নদিয়ায় এবং অন্যজনের বাড়ি বর্ধমান জেলায়। এই কারণে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং বর্ধমান—এই তিন জেলাতেই বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।







