বাংলাদেশে (Bangladesh) অশান্তির আবহে ফের এক হিন্দু যুবককে খুন করার অভিযোগ উঠল। মৃত যুবকের নাম সমীর কুমার দাস। বয়স ২৮ বছর। রবিবার রাতে ফেনি জেলার দাগনভূঞা এলাকায় জনতার হাতে পিটিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ (Bangladesh)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীর (Bangladesh) পেশায় অটোচালক ছিলেন। রবিবার রাতে তাঁকে মারধর করে অটো ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। পরে উপনগর হাসপাতালের কাছে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এটি ছিনতাই ও খুনের ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে (Bangladesh)।
এই ঘটনায় বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে নিহত হিন্দুদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। উল্লেখ্য, ভারত-বিরোধী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে একাধিক জায়গায় হিংসাত্মক বিক্ষোভ চলছে। সেই অশান্তির মধ্যেই সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসছে।
কয়েক দিন আগেই নরসিংদী জেলায় এক হিন্দু মুদি দোকানদারকে দোকানের মধ্যেই মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রশাসন।
গত এক সপ্তাহে আরও দু’জন হিন্দু যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সিলেটে জয় মোহাপাত্র নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, মোবাইল ফোনের কিস্তির টাকা নিয়ে বচসার জেরে তাঁকে মারধর ও অপমান করা হয়। পরিবারের দাবি, এর পরেই তিনি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। যদিও পুলিশ এখনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে, উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের এক এলাকায় মিঠুন সরকার নামে ২৫ বছরের এক যুবককে চুরির অভিযোগে তাড়া করে জনতা। প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দিলে তাঁর মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, গত দু’সপ্তাহে এক হিন্দু বিধবাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, একটি হিন্দু গয়নার দোকানে লুটপাট হয়েছে এবং কুড়িগ্রাম জেলার এক হিন্দু মহিলা আধিকারিককে ভোটের দায়িত্ব পালন করার সময় ভয় দেখানো হয়েছে।
যদিও মহম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনার নিন্দা করেছে, তবে সরকারিভাবে এই ঘটনাগুলিকে সাম্প্রদায়িক নয় বলে দাবি করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই মৃত্যুগুলি ব্যতিক্রমী ঘটনা। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম ভোট হতে চলেছে।












