ন্যাটো (Nato) নিয়ে ফের বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ট্রাম্পের ‘ন্যাটো আমেরিকা ছাড়া কিছুই নয়’ বক্তব্যকে একেবারেই বাস্তববর্জিত বলে মনে করছেন মেলোনি। তাঁর মতে, এমন সরলীকৃত ধারণা ইউরোপের নিরাপত্তার পক্ষে কোনওভাবেই লাভজনক নয়।
সম্প্রতি ট্রাম্প ফের দাবি করেন, আমেরিকা না থাকলে ন্যাটোর (Nato) কোনও শক্তি নেই। তাঁর মতে, রাশিয়া ও চিন ন্যাটোকে ভয় পায় শুধুমাত্র আমেরিকার উপস্থিতির জন্যই। এই মন্তব্য ইউরোপের ন্যাটো সদস্য দেশগুলির মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগের মন্তব্য ঘিরে আমেরিকার কৌশলগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী কটাক্ষের সুরে প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি ইউরোপকে আমেরিকার সেনাঘাঁটি বন্ধ করে দিতে হবে (Nato) , বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে বা ম্যাকডোনাল্ডস ভাঙতে হবে? যদিও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই মন্তব্য কোনও বাস্তব পরিকল্পনার ইঙ্গিত নয়। বরং সোশাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো অবাস্তব প্রস্তাবগুলির অসারতা তুলে ধরতেই এই উদাহরণ দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে আমেরিকা ও ন্যাটোর সম্পর্ক কিছুটা চাপে রয়েছে। ট্রাম্পের আমলে আমেরিকার বিদেশনীতি বদলানোর ফলে জোটের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ বেড়েছে। ইউরোপের একাধিক দেশ চাইছে, ন্যাটোর ভূমিকা, যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা হোক, বিশেষ করে রাশিয়া ও চিনের মতো শক্তিধর দেশের মোকাবিলায়।
ট্রুথ সোশালে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, আমেরিকা ছাড়া ন্যাটোকে রাশিয়া ও চিন একেবারেই ভয় পায় না। এমনকি তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, প্রকৃত প্রয়োজন হলে ন্যাটো আমেরিকার পাশে দাঁড়াবে কি না। যদিও একই সঙ্গে তিনি বলেন, আমেরিকা সব সময় ন্যাটোর পাশে থাকবে।
এছাড়াও ট্রাম্প আবার দাবি করেন, তাঁর চাপের কারণেই ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আগে অধিকাংশ দেশ জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করত না এবং আমেরিকাকেই একা বেশি অর্থ দিতে হত।
এই সব মন্তব্যের জেরে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ, আমেরিকার ভূমিকা এবং ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।












