করুর ভয়াবহ পদপিষ্টের (Stampede) ঘটনায় তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগম বা টিভিকে এবং দলের কোনও নেতা-কর্মী দায়ী নন বলে সিবিআইকে জানিয়েছেন দলের প্রধান ও অভিনেতা বিজয়। সোমবার দীর্ঘ ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেরার মুখে এই দাবি করেন তিনি। তদন্তকারীদের কাছে বিজয় আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বুঝেই তিনি সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান। তাঁর উপস্থিতি থাকলে আরও বিশৃঙ্খলা এবং গোলমাল তৈরি হতে পারত বলেও দাবি করেন তিনি (Stampede)।
সূত্রের খবর, বিজয়ের আগে যাঁরা টিভিকে-র তরফে সিবিআইয়ের কাছে জেরা দিয়েছেন, তাঁরাও একই কথা বলেছেন। এখন বিজয় এবং দলের অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য খতিয়ে দেখে পুলিশের আগের দাবি মিলিয়ে দেখা হবে (Stampede)। উল্লেখযোগ্যভাবে, পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, বিজয়ের সভাস্থলে পৌঁছতে দেরি হওয়াই ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করেছিল এবং তার জেরেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর করুরে টিভিকে-র নির্বাচনী সভায় ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্তত ৪১ জনের, আহত হন ৬০ জনেরও বেশি। এই মামলায় সোমবার সিবিআইয়ের ডাকে দিল্লিতে হাজির হন বিজয়। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্টার্ড বিমানে তিনি দিল্লি পৌঁছন এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সিবিআই সদর দফতরে যান। সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখার একটি দল তাঁকে জেরা করে।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিজয়কে ডাকা হয়নি। তবে পংগল উৎসবের পরে তাঁকে আবার জেরা করা হতে পারে। এ দিন বিজয়ের সঙ্গে দিল্লিতে যান টিভিকে নেতা আধব অর্জুন এবং নির্মল কুমার। বিজয়ের অনুরাগীরা যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারেন, সে কারণে সিবিআই দফতরের বাইরে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া মোতায়েন ছিল। তবুও অল্পসংখ্যক অনুরাগী সেখানে জড়ো হন।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই টিভিকে-র একাধিক পদাধিকারীকে জেরা করেছে সিবিআই। পাশাপাশি তামিলনাড়ুর প্রাক্তন এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) এস ডেভিডসন দেবাসির্বাথামকেও তলব করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার বিশেষ তদন্তকারী দল থেকে সিবিআইয়ের হাতে যায়। শীর্ষ আদালত তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাব এবং পুলিশ আধিকারিকদের প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই সঙ্গে প্রাক্তন বিচারপতি অজয় রাস্তোগির নেতৃত্বে তিন সদস্যের নজরদারি কমিটিও গঠন করা হয়, যাতে তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকে।
প্রসঙ্গত, করুরের সভায় অনুমতি ছিল ১০ হাজার লোকের জমায়েতের। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সেখানে হাজির হন বলে পুলিশের অনুমান। ভিড়ের চাপে বহু মহিলা ও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন শোনা যায় এবং সেই সময়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বিজয় গভীর শোকপ্রকাশ করেন এবং মৃতদের পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ও আহতদের ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এই ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকবে টিভিকে।












